নড়াইলের সদর উপজেলার নিরালী গ্রাম থেকে দেবভোগ গ্রাম পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা কাদায় ভরপুর। ফলে কয়েকটি গ্রামের অজস্র কৃষক মাঠ থেকে ফসল ঘরে আনতে সম্মুখীন হন কষ্টের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন তারা।

নড়াইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১ হাজার ৪৪৭টি রাস্তা রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ রাস্তার ৬০ শতাংশই কাঁচা। নড়াইল সদর উপজেলায় ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৭৩৮ কিলোমিটার। এছাড়া, লোহাগড়া উপজেলায় ১হাজার ১৯৯ কিলোমিটার, এর মধ্যে ৭৮৯ কিলোমিটার কাঁচা।  কালিয়া উপজেলায় ৭৪৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্ত রয়েছে। 

এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডি ভুক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা রাস্তার তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরো ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা রাস্তা নতুন করে তালিকা ভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।

সদর উপজেলার নিরালী গ্রামের বাসিন্দা অলোক বিশ্বাস বলেন, ‍“জন্মের পর থেকে আমরা কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করছি। শীত মৌসুমে রাস্তা দিয়ে কোনো রকম চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে একেবারেই যায় না। গ্রামটির অধিকাংশ পরিবার পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। যানবাহনের অভাবে অধিকাংশ সময় মাথায় করে পান নিয়ে বিভিন্ন বাজারে যেতে হয়। পাকা রাস্তার জন্য আমরা একাধিক বার জনপ্রতিনিধির কাছে আবেদন করেও কোনো ফল পায়নি।”

দেবভোগ গ্রামের আলামিন শিকদার জানান, ছয় কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার জন্য বার বার জনপ্রতিনিধিদের কাছে বলা হয়েছে। ভোটের পর নেতাদের আর মনে থাকে না। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। 

পানতিতা গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পপি রায় জানান, বৃষ্টি নামলে কাদায় ড্রেস নষ্ট হয়ে গেলে সেদিন স্কুলে না যেয়ে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়।

নড়াইল স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, “জেলার ৬০ শতাংশ রাস্তা এখনো কাঁচা আছে। নতুন অর্থ বছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”