প্রকাশিত হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং ইউজিসি পিএইচডি ফেলোশিপপ্রাপ্ত গবেষক ফায়াজুন্নেসা চৌধুরীর নতুন বই ‘Artificial Intelligence in Mordern Research: Tools, Techniques, Ethics and Applications’। এতে সহকারী লেখক হিসেবে আছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. ইমরান মাহমুদ।
বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষকতা করছেন ফায়াজুন্নেসা চৌধুরী। শিক্ষকতা, গবেষণা, লেখালেখি এবং পিএইচডি গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন কীভাবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি গবেষণার ধরন, গতিবিধি নতুনভাবে পরিবর্তন করছে। গবেষণার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেমন রয়েছে অসীম সম্ভাবনা, তেমনই ছুড়ে দেয় নানা ধরনের প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই রচনা করা হয়েছে বইটি।
লেখকের মতে, ‘বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এখন শুধু প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম হিসেবে দেখা হয় না। বরং এটি গবেষণার পুরো প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। গবেষণার বিষয় নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে সাহিত্য পর্যালোচনা, তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণাপত্র লেখা, এমনকি প্রকাশনার প্রস্তুতিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠের মতো, এর ব্যবহারের পাশাপাশি বেড়েছে নৈতিকতা ও একাডেমিক সততার চ্যালেঞ্জও। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও আমাদের আমলে নেওয়া অতীব জরুরি।’
আরও পড়ুন
পাওয়া যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাংলা একাডেমির গবেষণাগ্রন্থ
এ ছাড়া বইটির অন্যতম ও বিশেষ দিক রয়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো, এটি গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক দিকগুলোর পাশাপাশি নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে। বইটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে সাহিত্য পর্যালোচনা, সেমান্টিক অনুসন্ধান, উদ্ধৃতি ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য পরিশোধন, পরিমাণগত ও গুণগত বিশ্লেষণ, একাডেমিক লেখা, চৌর্যবৃত্তি সম্পর্কে সচেতনতা, গবেষণা নৈতিকতা এবং প্রকাশনা প্রস্তুতি আরও কার্যকর ও দক্ষতার সাথে সম্পূর্ণ করা যায়।
ফায়াজুন্নেসা চৌধুরী বলেন, ‘বইটি মূলত শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক, গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক, ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট এবং নতুন গবেষণা শুরু করতে আগ্রহীদের কথা মাথায় রেখে লেখা হয়েছে। গবেষণার শুরুতে অনেকেই রিসার্চ গ্যাপ নির্ধারণ, সাহিত্য পর্যালোচনা পরিচালনা, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা থিসিস ও জার্নাল আর্টিকেল লেখার মতো বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। বইটি তাদের জন্য সহজ, ব্যবহারিক এবং ধাপে ধাপে সাজানো পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বুঝতে, প্রশ্ন করতে, যাচাই করতে এবং একাডেমিক সততার সাথে প্রয়োগ করতে পারবেন; তারাই ভবিষ্যতের গবেষণায় সফল হবেন।’
বইটি লেখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে লেখক পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিবের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর দিকনির্দেশনা ও গবেষণামুখি চিন্তা আমাকে গবেষণার গভীরতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি দিয়েছে।’
আরও পড়ুন
পাওয়া যাচ্ছে ‘উত্তরাধিকার’ ও ‘ধানশালিকের দেশ’
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করতে আমরা আগ্রহী গবেষণায় শর্টকাট পথ খুঁজতে। তবে লেখক এ ধারণার সাথে দ্বিমত হয়ে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষকের অনন্য সহকারী হতে পারে, কিন্তু গবেষকের চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধের বিকল্প হতে পারে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে, এমনকি সময় বাঁচাতে পারে। কিন্তু গবেষণার প্রশ্ন কেমন হবে, যুক্তির ব্যাখ্যা কেমন হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব শুধু মানুষের হাতেই ন্যাস্ত। গবেষণা শুধু ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়। এটি জ্ঞান, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্ব।’
বাংলাদেশের গবেষণাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে বইটি হতে পারে অনন্য পাথেয়। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের জন্য বইটি গবেষণার সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ধারণার হাতিয়ার হতে পারে। একইসঙ্গে গবেষণায় প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও একাডেমিক সততার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতনতা তৈরিতে সহায়তা করবে। গবেষণা ও জ্ঞান চর্চার জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসইউ








