এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী। কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে ফরম পূরণের নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরু হলেও ওই শিক্ষার্থীদের কেউই প্রবেশপত্র পাননি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান এ ঘটনায় বুধবার বিকেল থেকেই মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত ওই কর্মী।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিন বিভাগে মোট ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। প্রায় দুই মাস আগে ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন তিনি।

গত ২৪ জুন কলেজের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়নি। সে সময় শাওন শিক্ষার্থীদের জানান, দেরিতে ফরম পূরণ করায় তাদের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড আসতে কিছুটা সময় লাগবে। এরপর ২৮ জুন কলেজের বিদায় অনুষ্ঠান চলে গেলেও তারা প্রবেশপত্র পাননি। ৩০ জুন ও ১ জুলাই দেওয়ার কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন শাওন।

একপর্যায়ে ১ জুলাই (বুধবার) রাত নয়টার পর থেকে মুঠোফোন বন্ধ করে নিখোঁজ হন তিনি। গতকাল বিকেল পর্যন্ত কলেজে অপেক্ষা করে প্রবেশপত্র না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আজ সকালে পরীক্ষা দিতে না পেরে কলেজের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সম্রাট সরকার বলেন, শাওন আমাদের বলেছিল, সে কলেজের স্টাফ, স্যারদের বলে সব ব্যবস্থা করে দেবে। এই বিশ্বাসে আমরা তাকে টাকা দিই। কিন্তু সে শুধু আজকে-কালকে বলে ঘুরাচ্ছিল। বুধবার দুপুরের দিকে কলেজে এসে যখন প্রিন্সিপাল স্যারকে জানাই, স্যার বলেন এখন আর কিছু করার নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া স্টাফ যদি এ প্রতারণা করে, তবে এর দায় কি কলেজ এড়াতে পারে? আমাদের একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল, আমরা ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হাসর বলেন, ফরম পূরণের সময় পার হয়ে যাওয়ায় আমি চিন্তিত ছিলাম। তখন শাওন নিজ থেকেই স্যারদের সঙ্গে কথা বলে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং ৪ হাজার টাকা নেয়। পরে কার্ড চাইলে বলে একটু সময় লাগবে। এমনকি সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আছে—এমন ভিডিও পাঠিয়েও আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গতকাল রাত থেকে তার ফোন বন্ধ। আমার মতো কোনো শিক্ষার্থী যেন আর এমন প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি বুধবার বিকেলে জানতে পেরেছি। দুজন শিক্ষার্থী এসে আমাকে জানালো তারা ১০ জন এমন পরিস্থিতিতে স্বীকার হয়েছে। আমি তাদের বলি, আমাদের কলেজের সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। ফরম পূরণের জন্য আলাদা কমিটি আছে, হাতে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। শাওন এখানে খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করত। ঘটনার পর তাকে ফোন দেওয়া হলেও সে রিসিভ করেনি, এখন ফোন বন্ধ।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি অন্তত দুই দিন আগেও বিষয়টি আমাদের জানাত, তাহলেও বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করা যেত। একেবারে শেষ মুহূর্তে জানানোয় অফিসিয়ালি আর কিছু করার ছিল না। মহাস্থান কলেজ একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, এখানে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেএইচকে/এএসএম