বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের জন্য সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্টিয়ারিং কমিটি এবং একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটি’র একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরে সভার প্রধান আলোচ্য বিষয় ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ গণমাধ্যমকে অবহিত করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছি। এরমধ্যে রয়েছে—
১. স্বাস্থ্য সেবা ও শিশুস্বর্গ কর্মসূচি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ‘শিশুস্বর্গ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১,০০০ শিশুকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অন্তত ২০-২৫টি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য আলাদা ফাইল খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের চাহিদার তালিকা থাকবে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে রেফার করা হবে।
আরও পড়ুন
সব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের জন্য বাধ্যতামূলক র্যাম্প চেয়ে রিট
বিবিএস জরিপ / দেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি স্কুলে যায় না
২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রবেশযোগ্যতা (Accessibility): পরিকল্পনা কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি স্থাপনা তৈরির প্রকল্পের মূল্যায়নে ‘ডিজেবিলিটি ইনক্লুসিভ’ বা প্রতিবন্ধী-বান্ধব কি না, তা যাচাই করা হবে। প্রতিটি সরকারি স্থাপনায় র্যাম্প, লিফট এবং বিশেষ টয়লেটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কুলগুলোতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যতে চালু হতে যাওয়া ইলেকট্রিক বাসগুলোতে (ইভি বাস) হুইলচেয়ার ব্যবহারের উপযোগী ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সব সেবা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’এর আওতায় নিয়ে আসার কাজ চলছে। ১০টি জেলায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, ফিজিক্যাল ও মেন্টাল হেলথ সার্ভিস, প্রশিক্ষণ ও লিগ্যাল এইড সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও আয়ের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা সন্তানকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে পারেন।
৪. ক্রীড়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদা: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সেগমেন্ট তৈরি এবং তাদের ভাতা প্রদানের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে কেবল একটি সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ (Charity) হিসেবে নয়, বরং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে একজন করে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ নিয়োগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও গতিশীল হয়। সরকার আশা করছে, সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের প্রায় ২ কোটি প্রতিবন্ধী মানুষ মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তারা রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত হবে।
এসইউজে/এমএমকে








