নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানের তালিকা পাঠাতে অবহেলার অভিযোগে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

গত দুদিন ধরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানের তালিকায় থাকা নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ে।

সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘তালিকাটি করেছে আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরান। আমার পিএস অনুদানের তালিকার বিষয়ে আমাকে জানালে আমি তাকে বলি, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএসের কাছে ছিল। কিন্তু, অনুদানের তালিকায় পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোকের নাম বেশি দিয়ে ফেলে। এটা আমি চাইনি।’

সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার তালিকায় দুই জায়গায় এমপির মেয়ের নাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া এমপির এলাকা ও আত্মীয়স্বজনের এলাকার লোকজনের নামও এই তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) অনুদানপ্রাপ্তদের নামের তালিকাসংবলিত একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানসংক্রান্ত চিঠি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো।’

চিঠির সঙ্গে অনুদানপ্রাপ্ত ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। তালিকায় ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নাম দেখা যায়। দুটি নামের পাশে বাবার নামের জায়গায় একটিতে ‘মো. বাচ্চু’ ও অপরটিতে ‘মো. আতাউর’ লেখা রয়েছে। দুটি নামের পাশেই ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে বিভিন্ন পেশার মানুষ মন্তব্য করেন।

তালিকা নিয়ে আরও অভিযোগ ওঠে, নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের। এ ছাড়া লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায়।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘অনুদান বিতরণের আগেই আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অনুদানের টাকাটা যে এসেছে, তা-ও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কি না। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, ‘‘স্যার টাকা তো এসেছে।’’ আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। যে তালিকা তৈরি হয়েছে, বিতরণ সে অনুযায়ী হবে না। আমি কোনো অনৈতিক কাজে কখনো সমর্থন দিই না।’

সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘অনুদানের টাকা উত্তোলনের সরকারি সময়সীমা শেষের দিক থাকায় তড়িঘড়ি করার কারণে এবং তালিকা আমি না দেখায় এমনটি হতে পারে। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।’

নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন, ‘এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদানের টাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তাঁর টাকা ফেরত যাবে।’