নড়াইলের সদর উপজেলায় গ্রামীণ সড়কের প্রায় ৬০ শতাংশ এখনও কাঁচা। ফলে বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বাসিন্দারা। মুলিয়া ইউনিয়নের দূর্বাজুড়ি-সীতারামপুর সড়কের ২ কিলোমিটার অংশে কাদায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও অধিকাংশ সড়কের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
দূর্বাজুড়ি গ্রামের গোপাল বিশ্বাস বলেন, আমাদের গ্রামে তিন থেকে চারবার এমপি এসেছেন। এসে রাস্তা দেখে গেছেন। তারা আশ্বস্ত করে যান রাস্তা হবে। কিন্তু আর হয় না। আমাদের এক মণ ধান হাটে নিতে হলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়। তা ও তারা আসে না। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামে ছেলে মেয়ের বিয়ে হয় না। আমরা চাই আমাদের এই রাস্তা দ্রুত পাকা করা হোক।
শুধু দূর্বাজুড়ি সীতারামপুরের হিজলডাঙ্গা, ইচড়বাহাসহ কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচল এ রাস্তায়। বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যায় গ্রামের রাস্তা। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে যেমন দুর্ভোগ, তেমনি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।
কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, সমান্য বৃষ্টিতে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়ি পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তাটি পাকা করণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।
আরও পড়ুন
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় বন্ধ ৩৮ বিদ্যালয়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি-মৎস্যখাত
শুধু এই দুইটি গ্রামের সড়ক না। এরকম জেলায় তিনটি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশ এখনও কাঁচা রয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওই সব গ্রামের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধিনে থাকা ১ হাজার ৪ শত ৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২ শত ২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১ শত ৮১ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।
লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৯ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা ৭৮৯ কিলোমিটার, এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ।
কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা ৪৩৩ কিলোমিটার। উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৫৮ শতাংশ।
এছাড়া এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডি ভূক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরও ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা সড়ক নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০ শতাংশ রাস্তা এখনও কাঁচা আছে। বর্তমান অর্থ বছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু রাস্তা সংস্কার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। কিছু রাস্তা টেন্ডারে আছে। নড়াইল জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। এই প্রকল্পগুলো পাস হয়ে গেলে আগামী অর্থ বছরে কাঁচা এবং পাকা রাস্তা ৫০ শতাংশে আনতে পারব।
হাফিজুল নিলু/এনএইচআর







