নরসিংদী আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী লিখন তালুকদারের অভিযোগ, তাকে জিম্মি করে নির্যাতন চালিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় তিনি নরসিংদী মডেল থানায় কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ রানা বাবুলকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বাবুল হাজীপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের সামাদ সরকারের ছেলে। বাকি আসামিরা হলো- বাবুলের ভাই কামাল সরকার, বদরপুর গ্রামের কামাল ভূঁইয়া, নরসিংদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু হানিফ সজিব, বিলাসদী এলাকার ইনসান ও শরীফ, শিবপুরের পুটিয়া গ্রামের মোশারফ হোসেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে। ভুক্তভোগী লিখন ফরিদপুরের নগরকান্দার বাসিন্দা এবং ঢাকায় একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুরে চেকসংক্রান্ত মামলায় হাজিরা দিতে নরসিংদী আদালতে যান লিখন। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় মাসুদ রানা বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে স্ত্রী সায়মা শাহীন রিয়াকে ফোন করে বীভৎস নির্যাতনের শব্দ শোনানো হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। স্বামীকে রক্ষায় বাধ্য হয়ে স্ত্রী রিয়া নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে ৬টি বিকাশ নাম্বারে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পেয়ে অভিযুক্তরা তাকে ছেড়ে দেয়।

জানা গেছে, চক্রের মূলহোতা মাসুদ রানা বাবুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নিজেকে ‘মাদকবিরোধী আন্দোলন’ নরসিংদী জেলার সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, ভুঁইফোড় এ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বাবুল মাদক চক্রের কাছ থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা আদায় করেন। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে তার নেতৃত্বে নরসিংদীতে একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্র সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি চক্রটির কয়েকজন নারী সদস্য আটক হলেও কথিত নারী সর্দার এখনো অধরা। এর আগে কয়েকটি অভিযোগ তদন্ত করে ওই নারীকে আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এই হানি ট্র্যাপ চক্রের ফাঁদে পড়েছেন নরসিংদীর শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, বিত্তবান ব্যক্তি, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। চক্রের কথিত নারী সর্দার কৌশলে টার্গেট ব্যক্তিদের ভিডিও কল দিয়ে প্রথমেই স্কিনশর্ট নেন, সুযোগ পেলে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরে বাবুলের সঙ্গে সমন্বয় করে ভুক্তভোগীদের কাছে অর্থ দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলেই অপরাধ কণ্ঠ, নরসিংদী পোস্ট, জনসংবাদ টিভিসহ বিভিন্ন নামের ফেসবুক পেজ থেকে চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়। নারী সর্দারের দাবি অনুযায়ী, হানি ট্র্যাপ থেকে আদায়কৃত চাঁদার ৭০ ভাগ তার নিজের এবং ৩০ ভাগ বাবুল নেন। অর্থ আদায়ের একটি ভিডিওচিত্র যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। অভিযুক্ত মাসুদ রানা বাবুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।