নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় একটি পরিবারের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে কাফনের কাপড় ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের বাড়িতে কে বা কারা এগুলো রেখে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত গভীর রাতে কে বা কারা আব্দুল গফুরের বাড়ির গেটের সামনে সাদা কাফনের কাপড় সদৃশ কাপড় রেখে যায়। কাপড়টির সঙ্গে হাতে লেখা চিরকুট সংযুক্ত ছিল। ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজার সামনে কাপড় ও চিরকুটটি দেখতে পায়। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
চিরকুটে লেখা আছে, “সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। পরে আর নাও সময় পেতে পারিস। আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে ভালো হয়ে যা। আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিক। মানুষের উপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে আল্লাহভীরু হও।”
চিরকুটের ভাষা ধর্মীয় উপদেশের আড়ালে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে এর সঙ্গে কাফনের কাপড় রেখে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যরা এটিকে সুস্পষ্ট ভয়ভীতি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল গফুর, আব্দুল বারিকসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। হঠাৎ এমন ঘটনার পর তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। বাড়ির নারী ও শিশুরাও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।
তারা বলেন, “আমরা জানি না কে বা কারা এমন কাজ করেছে। আমাদের ভয় দেখিয়ে কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় তাও বুঝতে পারছি না। দরজার সামনে কাফনের কাপড় রেখে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”








