প্রশ্ন: একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, নিশো নয়, সবাই আপনার অভিনীত চরিত্রের নামে ডাকছে—কোন চরিত্রটা হলে সবচেয়ে বিপদে পড়বেন?
আফরান নিশো: নাটকে মরীচিকার ‘বাবু ভাই’ আর সিনেমায় সুড়ঙ্গর ‘মাসুদ’। যদি বাবু হয়, সে তো টপ টেরর, পালিয়ে গেছে। তার একটা বিপত্তি আছে। অন্যদিকে মাসুদ হলে, সে একজন সাধারণ মানুষ, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, বউকে মেরে ফেলেছে। এরপর পুলিশের কাছে ধরা পড়বে কি পড়বে না, পরিণতি কী হবে—আত্মশুদ্ধির জন্য কি ধরা দেবে, নাকি পালিয়ে বেড়াবে—দুটি চরিত্রই বিশাল ফাঁপরের। ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি আমিই দুইটা চরিত্র হয়ে গেছি, তাহলে সত্যিই তো ফাঁপরে পড়ে যাব!
প্রশ্ন: ফেসবুকে আপনাকে নিয়ে যখন আলোচনা হয়, কখনো কমেন্ট সেকশনে ঢুকে নিজের পক্ষে ফেক আইডি থেকে তর্ক করতে চেয়েছেন?
আফরান নিশো: আমি ফেসবুক খুব একটা ব্যবহার করি না। ফেসবুকে যাও থাকি, দেখা হয় অভিনয়–সম্পর্কিত ও গাড়িবিষয়ক অনেক কিছু। ফেসবুক আমার খুব একটা পছন্দের মাধ্যমও নয়। যেখানে আমি নিজের আইডিই ব্যবহার করি না, সেখানে ফেক আইডি দিয়ে তর্ক করার প্রশ্নই আসে না।
প্রশ্ন: এক দিনের জন্য বাংলাদেশের সব টিভি রিমোটের নিয়ন্ত্রণ পেলেন, প্রথমে কোন চ্যানেল চালু করবেন?
আফরান নিশো: আমার মনে হয়, বিনোদনের যে চ্যানেল আছে, সেটাই প্রথমে চালু করতাম। আর যে চ্যানেল দেখতে কোনো টাকা লাগে না (হাসি)। যেখানে মানুষ সহজে কনটেন্ট দেখতে পারত।
আমি জেলখাটা পাবলিক: পরীমনিপ্রশ্ন: নাটকের প্রেমিক চরিত্রগুলো যদি একসঙ্গে বসে আড্ডা দিত, তারা কী অভিযোগ করত?
আফরান নিশো: আচ্ছা, আমরা সবাই মিলে প্রেমটা করতেছি ক্যান? প্রেম ছাড়াও তো আরও অনেক কিছু করার আছে। (হাসি)
প্রশ্ন: যদি অভিনয় ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে হয়, কোন পেশায় গিয়ে মানুষকে সবচেয়ে বেশি অবাক করবেন?
আফরান নিশো: অবাক করার কথা যদি বলি, গাড়ির মেকানিক হয়ে যেতাম। কারণ, গাড়ির প্রতি আমার ঝোঁক ও বোঝাপড়া অনেক ভালো। একজন মেকানিক গাড়ির যতটা বোঝেন, কোনো অংশে আমি কম বুঝি না।
প্রশ্ন: আপনাকে নিয়ে বানানো একটি মিম ভাইরাল—লাইক দেবেন নাকি নির্মাতাকে খুঁজে বের করবেন?
আফরান নিশো: যদি চোখে পড়ে, আমি সেটার মুডে থাকব। মিমই তো, এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কী আছে?
বাসায় গণতন্ত্র নেই, মাতৃতন্ত্রও নেই, এখানে চলে শুধু জয়তন্ত্র: অপু বিশ্বাসপ্রশ্ন: যদি জীবনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সারাক্ষণ বাজত—সেটা রোমান্টিক, থ্রিলার নাকি কমেডি?
আফরান নিশো: ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক রোমান্টিকই বাজত। কারণ, এটা সুদিং মিউজিক। থ্রিল তো টায়ার্ড করে ফেলবে। কমেডি তো চাই না।
প্রশ্ন: এত সিরিয়াস ও রোমান্টিক চরিত্র করেন; কিন্তু বাসায় গিয়ে কি কখনো শুনতে হয়, ‘নাটক-সিনেমা বাদ দিয়ে আগে বাজারটা করে আনো?’
আফরান নিশো: শুনতে হয়। সিনেমায় কাজ করার কারণে এখন পরিবারকে অনেক সময় দিতে পারি, আগে নাটক করার সময় পারতাম না। আগে শুনতে হতো না, কারণ এটাও জানত যে বলেও কোনো লাভ নাই। এখন যেহেতু সময় পাই পরিবারও প্রত্যাশা করে । তাই এ রকম কথা শুনতে হয়, ‘ঢংটং না কইরা একটু বাজার কইরা নিয়া আসো।’ (হাসি)
প্রশ্ন: আপনার সব অনস্ক্রিন নায়িকা মিলে যদি একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন, গ্রুপের নাম কী হতে পারে বলে মনে হয়?
আফরান নিশো: নায়িকারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুললে নাম হবে ‘আনপ্রেডিকটেবল’। কারণ, জীবনটাই আনপ্রেডিকটেবল। আর আমার জীবনের সঙ্গে আনপ্রেডিকটেবল বিষয় যায় বেশি।
প্রশ্ন: আপনার বিপরীতে অভিনয় করা নায়িকারা যদি আপনাকে একটা রিপোর্ট কার্ড দেন, কোন বিষয়ে সবচেয়ে কম নম্বর পাওয়ার আশঙ্কা আছে?
আফরান নিশো: সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিষয়ে। নায়িকারা চান, তাঁরা আর্লি গেলে আমিও আর্লি যাই। এই অভিযোগটাও থাকতে পারে, ‘উনি খুব সকালে আসতে পারেন নাই, বা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন নাই। সকালের ঘুমটা তাঁর অনেক প্রিয়।’
প্রশ্ন: আপনার সঙ্গে কাজ করা সব নায়িকাকে একসঙ্গে বসিয়ে যদি একটা প্রশ্ন করার সুযোগ পান, কী প্রশ্ন করবেন?
আফরান নিশো: নায়িকাদের একটা প্রশ্ন করব, খুব মেকআপ করাটা কি জরুরি? (হাসি)।
প্রশ্ন: দেশের সব নায়ককে নিয়ে যদি ফুটবল দল বানানো হয়, কাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখবেন?
আফরান নিশো: যে নায়ক খেলতে পারেন না, তাঁকেই বেঞ্চে বসিয়ে রাখব। যাঁদের খেলাধুলা সম্পর্কে বোঝাপড়া ভালো, তাঁদের তো খেলতে দিতে হবে।
প্রশ্ন: শুটিংয়ের প্রেমিকা যদি বলে, ‘তুমি আমাকে সময় দাও না’, আর বাসার স্ত্রীও একই অভিযোগ করেন—দুজনকে কী বলে পরিস্থিতি সামলাবেন?
আফরান নিশো: আমাকে একটু সময় দাও না, আহা…! কাজ তো, কাজ। সবার আগে তো কাজটাই করি, তাই না? এত অভিযোগ কিসের, কাজটা করতে দাও না!
প্রশ্ন: সহশিল্পী যদি আপনার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, ‘নিশো আজ প্রেমের দৃশ্যে একটু বেশিই সিরিয়াস ছিল’—তাহলে বাসায় ফিরে কী ব্যাখ্যা দেবেন?
আফরান নিশো: আমার মনে হয় না, এ ধরনের অভিযোগ কেউ করতে পারেন। আমার ওয়াইফ কিন্তু খুবই সেনসিবল। তবে কেন জানি মনে হয়, বউই আমাকে উল্টা প্রশ্ন করবে, নায়িকার সঙ্গে কোনো গ্যানজাম হইছে নাকি—টাকাপয়সা, ডেটটেট দাওনি, এ রকম কিছু হয়নি তো? (হাসি)
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের
[এই সাক্ষাৎকারটি কাল্পনিক নয়!]








