নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারের অভিযোগে একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১০টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোতে ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত ধারণ করা শতাধিক অশ্লীল ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় ‘টাঙ্গাইল’ নামে একটি ফিশারিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার শিবপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৩০), শুভ (২০), সাগর মিয়া (২০), জুয়েল মিয়া (৩২), মাজিজুল (২৫), কাজল মিয়া (২০), মেঘশিমুল গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবি (৪০) এবং সালমাকান্দা গ্রামের মনিরা আক্তার (৩০)।
পূর্বধলা থানা-পুলিশ জানায়, অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রচার করছিল একটি চক্র। গোপন খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শিবপুর এলাকার ‘টাঙ্গাইল’ নামে একটি ফিশারিতে অভিযান চালায় পুলিশ। ফিশারিটি টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শাফি খানের মালিকানাধীন।
অভিযানে সাতজন পুরুষ ও একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় আরও দুই নারী ও ৬-৭ জন সহযোগী পালিয়ে যান। অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে শতাধিক অশ্লীল ভিডিওর অস্তিত্ব পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আরও কয়েকজন নারী-পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে আসছিলেন।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেপ্তার আটজনসহ ১৪ জনের নামোল্লেখ করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ দুপুরে গ্রেপ্তার আটজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।







