ম্যাচের ২০ মিনিটে পেনালটি মিস করার পর খুব রাগ হয়েছিল লিওনেল মেসির। কার ওপর? নিজের ওপর। রাগ করারই কথা। এই বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ১২ গজ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গত পরশু রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেসি পেনালটি মিস না করলে স্কোরলাইন ১-১ হতো প্রথমার্ধে। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা শেষমেশ রোমেরো, মেসি ও ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জেতে ৩-২ ব্যবধানে। শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। সাজঘরে ফিরে কোচ লিওনেল স্কালোনিও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ছলছল করে ওঠে তার দুচোখও। আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ। কখনো কখনো কান্না থামিয়ে রাখতে পারি না। ছেলেরা আমাকে বলে, ‘কাঁদুনে শিশু’। বলুক, তাতে আমার কিছু যায়-আসে না।’
পেনালটি মিসের প্রায়শ্চিত্ত মেসি করেছেন আর্জেন্টিনার সমতাসূচক গোল (২-২) করে। তখন ম্যাচের ৮৩ মিনিট। এবারের আসরে নিজের অষ্টম গোল করেই মেসি ছুটে যান কর্নারের পতাকার দিকে। দুবার মুষ্টিবদ্ধ হাত ছোড়েন শূন্যে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘পেনালটি নষ্ট করার পর নিজের ওপর আমার ভীষণ রাগ হয়েছিল। মনে হয়েছিল, আমি দলকে ডুবিয়েছি। যেভাবে শর্ট নিয়েছিলাম তাতেও হতাশ ছিলাম। ওরা যখন ২-০ করে ফেলল, তখন সত্যিই মনে হয়েছিল, পরিস্থিতি খুব খারাপ। নকআউট ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা খুবই কঠিন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য বিশেষ কিছু রেখেছিলেন। তাই তো সমতাসূচক গোল করতে পেরেছি। গোল করে নিশ্চিন্ত হয়েছি।’
গোল করার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। এভাবে তাকে কখনো কাঁদতে দেখা যায়নি এর আগে। পরে লাওতারো মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম গোলটা উপভোগ করতে। কারণ, এটা ওর প্রাপ্য। বলেছিলাম, ওর জন্য নিজেদের নিংড়ে দেব আমরা। এটি যে তার শেষ বিশ্বকাপ। তিনি আমাদেরকে এত কিছু দিয়েছেন। আমাদের এখন তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।’







