ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যানাংশু নাহাকে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। যদিও বিষয়টি শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশ্যে আসে।

সাময়িক বরখাস্তের আদেশে লেখা হয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রেসিভ টিচার্স সোসাইটি’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন কল্যানাংশু নাহা। সভার ভিডিও ও অডিও কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও লেখা হয়, ওই বৈঠকে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে করণীয় তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির পরিপন্থি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ধারা ৪৩(৪) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধান অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর বেশি আপাতত কিছু বলা সম্ভব নয়।’

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক কল্যানাংশু নাহার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তপন কুমার সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে আমরা সাময়িক বরখাস্তের আদেশের অনুলিপি পেয়েছি। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’

হোসাইন সুলভ/কেজে/এএসএম