টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর নিউমার্কেটের সামনের সড়কে জমা পানি অবশেষে নেমে গেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ১ নম্বর গেটের সামনের সড়কে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা আর নেই।
রোববার (১২ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নীলক্ষেত মোড় থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিমুখী সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব আশপাশের অলিগলি, আবাসিক ভবন, নিউমার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট এবং ঢাকা কলেজের সামনের সড়কেও পড়ে।

জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আজিমপুর, নতুন পল্টন লাইন, নবাবগঞ্জ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এ সড়ক ব্যবহারকারী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে ফুটপাতের ব্যবসায়ী, পোশাককর্মী এবং বিভিন্ন মার্কেটের কর্মচারীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
আরও পড়ুন
বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় ঢাকায় দিনে ক্ষতি শত কোটি টাকা
জমে থাকা পানির কারণে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাসও এ সড়কে আটকে পড়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় চলা ভ্যানগাড়িই ছিল সড়ক পারাপারের প্রধান ভরসা।

সোমবার বিকেলে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নিউমার্কেটের সব দোকানপাট খুলেছে এবং স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কম হলেও বেচাকেনা শুরু হয়েছে। আগের দিন যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস আটকে ছিল, সেই গভর্নমেন্ট অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনের সড়কের পাশে কয়েকটি প্রাইভেটকার পার্কিং করা অবস্থায় দেখা যায়।
আরও পড়ুন
খাল-নদীর পথ হারিয়েছে বৃষ্টির পানি, বারবার ডুবছে ঢাকা
নিউ সুপার মার্কেটের গার্মেন্টস দোকানের কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রাস্তা থেকে পানি নেমে গেলেও আজ ক্রেতা নেই বললেই চলে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুজন ক্রেতার কাছে দেড় হাজার টাকা বিক্রি করেছি।

নিউমার্কেটের রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ে কর্মরত নিয়ামত আলী জানান, টানা দুইদিন বৃষ্টির কারণে ইজারার এক টাকাও ইনকাম হয়নি। আজ বিকেল থেকে চার-পাঁচটি গাড়ি পার্কিং ফি আদায় হয়েছে।
ফুটপাতের ফল বিক্রেতা হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে গত দুদিন দোকান বসাতে পারেননি। বিকেল থেকে দোকান বসিয়েছেন, বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।
আরও পড়ুন
‘বের না হলে বাজার করার টাকাও থাকবে না, পেট তো আর বৃষ্টি বোঝে না’
আইয়ুব আলী কলোনির বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, জলবদ্ধতার কারণে বাড়ির ট্যাংকিতে ময়লা পানি ঢুকে পড়েছিল। আজ ৩০০০ টাকা খরচ করে ট্যাংকি পরিষ্কার করিয়েছেন।

তবে নিউমার্কেটের সামনের সড়ক থেকে পানি সরে গেলেও ঢাকা কলেজের বিপরীত পাশে গ্লোব শপিং সেন্টারের সামনে থেকে হকার্স মার্কেট পর্যন্ত কিছু স্থানে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। সেখানে মোটা পাইপের মাধ্যমে পানি অপসারণের কাজ করতে দেখা গেছে।
এদিকে নিউমার্কেট ও আশপাশের ফুটপাতেও আবার দোকান বসতে শুরু করেছে। শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে কাপড়চোপড়ের দোকানেও ধীরে ধীরে আগের মতো বেচাকেনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টার দুর্ভোগের পর এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ফিরতে শুরু করলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
এমইউ/বিএ







