টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়িক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সদর দপ্তরে গত সোমবার (৬ জুলাই) প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ইনভাইরনমেন্ট হেলথ অ্যান্ড সেইফটি (ইএইচএস) বিভাগের উদ্যোগে ‘ফান্ডামেন্টালস অফ ইএসজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ শীর্ষক কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়ালটন এবং ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল লার্নিং।
কর্মশালায় ওয়ালটনের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নীতি-নির্ধারকেরা অংশ নেন।
কর্মশালার শুরুতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, “বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে নেতৃত্ব দিতে ওয়ালটন সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা শুধু পণ্য উৎপাদনই করছি না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতেও কাজ করছি। আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কর্পোরেট সুশাসন—প্রতিটি স্তরে ইসিজি কমপ্লায়েন্স (Environmental, Social, and Governance) নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
ওয়ালটনের চিফ ফিন্যানশিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম বলেন, “আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রায় ‘ইএসজি' এবং ‘সাসটেইনেবিলিটি' এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় বা কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ নয় বরং এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক টেকসইতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মূল চালিকাশক্তি। এই প্রশিক্ষণ আমাদের কর্মকর্তাদের কাজের পরিধিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে এবং কোম্পানির টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
প্রতিষ্ঠানের ইএইচএস বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু বলেন,“ওয়ালটন সবসময়ই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী। একটি টেকসই এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের ইএইচএস টিমের মূল লক্ষ্য। শিল্পকারখানায় ইএসজি এবং সাসটেইনেবিলিটির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি কর্মীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত এই জ্ঞান আমাদের কারখানার ইএইচএস-কমপ্লায়েন্সকে আরো শক্তিশালী করবে এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও সবুজ কর্মপরিবেশ গঠনে সহায়তা করবে।”
ইএসজি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এর অভিজ্ঞ ট্রেইনার ও সাসটেইনেবিলিটি বিশেষজ্ঞরা এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।
ইএসজি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান প্রশিক্ষক শাদমান সাকিব অনিক বলেন, “বর্তমান করপোরেট ও ম্যানুফ্যাকচারিং বিশ্বে ইএসজি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় বরং ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সফলতার মূল ভিত্তি। ওয়ালটন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সকে যেভাবে প্রাধান্য দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আজকের এই সেশনে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আমরা যে আগ্রহ ও পেশাদারিত্ব দেখেছি, তা প্রমাণ করে ওয়ালটন বৈশ্বিক মানদণ্ড অর্জনে কতটা আন্তরিক।”
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, চিফ ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার, ওয়ালটনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর বিজনেস কো-অর্ডিনেটর প্রতিক কুমার মোদক, চেয়ারম্যানের সহকারী বিজনেস কো-অর্ডিনেটর মো. এনামুল হক, এসি প্রোডাক্টের ডেপুটি চিফ বিজনেস অফিসার শামিম আহম্মেদ, রেফ্রিজারেটর উৎপাদন বিভাগীয় প্রধান মো. নাসির উদ্দীন, প্রশাসন বিভাগীয় প্রধান তানভীর আহম্মেদ, এএমডি ডেপুটি সেলিম রাজা রাসেল, ফিন্যান্স কন্ট্রোলার মো. সাজেদুল কবিরসহ ইএইচএস বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।








