ছোট ছোট শিশুদের ওপর নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বেঙ্গালুরুর একটি অন-ক্যাম্পাস ডে কেয়ার সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাপজেমিনির নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ক্যাপজেমিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এই ঘটনার সত্যতা বের করতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। সতর্কতা হিসেবে বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসের ডে কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ডে কেয়ারে ভয়ংকর কাণ্ড: কাঁদলেই শিশুদের আটকে রাখা হতো ওয়াশিং মেশিনে!

ওয়াশিং মেশিনের ঢুকিয়ে শিশু নির্যাতন

সম্প্রতি ক্যাপজেমিনির বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসের ভেতরের ডে কেয়ার থেকে কিছু ভয়াবহ ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র দুই বছর বয়সী শিশুদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

শিশুরা কান্নাকাটি করলে শাস্তি হিসেবে তাদের ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর বসিয়ে রাখা হতো। এখানেই শেষ নয়, কমোডে বসিয়ে টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে জোর করে তাদের মুখে পানি ছিটানো হতো। কান্না থামানোর জন্য অনেক সময় শিশুদের বাথরুমে আটকে রাখা হতো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ পাঁচজন নারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। এই নির্যাতন কি কেবল মাঝেমধ্যে হতো নাকি এটি নিয়মিত ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ডে কেয়ার সেন্টারটি ক্যাপজেমিনি নিজে পরিচালনা করত নাকি কোনো বাইরের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

চাকরিজীবী অভিভাবকেরা কর্মদিবসে তাদের সন্তানদের এই ডে কেয়ারে রেখে যেতেন। সেখানেই আয়ার কাজ করা ওই নারীরা শিশুদের ওপর এই পাশবিক শাস্তি চালাতেন।

আরও পড়ুন

শিশুর কোলে গন্ধগোকুল নাকি বিড়াল, ভাইরাল ভিডিওর আসল রহস্য

কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস

বেঙ্গালুরু সিটির পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার সিং একে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

কমিশনার বলেন, আইটি কোম্পানির ওই ডে কেয়ারের পাঁচজন নারী কর্মীর নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা অভিযোগ ও ভিডিওগুলো খতিয়ে দেখছি। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মামলা করা হয়েছে। একজন নারী ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো অপরাধী যেন পার না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনও এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে। কমিশন এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন তলব করবে এবং ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কেএএ/