জোরপূর্বক পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। সে সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাদের সুরক্ষা দিয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরা আল আকসার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তালমুদীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে।

১৯৬৭ সালে ছয়দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ আল-আকসা মসজিদ ঘিরে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। ইসরায়েল এ যুদ্ধে জয়ী হয়। তারা গাজা ও সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়, যা ১৯৪৮ সাল থেকে মিশরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরও তারা দখল করে নেয় জর্ডানের কাছ থেকে।

যুদ্ধের আগ পর্যন্ত জর্ডানের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এর তত্ত্বাবধায়ক ছিল। এরপর ইসলামি ওয়াকফ ট্রাস্টের হাতে মসজিদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। শুধু মুসলমানরাই আল-আকসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। তবে ইহুদিরা পশ্চিম দেওয়ালে প্রার্থনার জন্য অংশ নেন।

মুসলিম ও ইহুদি, দুই ধর্মাবলম্বীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত আল-আকসা মসজিদ। দুই ধর্মাবলম্বীই আল-আকসাকে নিজেদের বলে দাবি করেন।

মুসলিমদের জন্য তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান এটি। মসজিদ চত্বরটি মুসলিমদের কাছে হারাম-আল-শরীফ হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা আল-আকসা মসজিদ ও তার আশপাশের অংশকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাদের জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থান।

পুরো মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল, জর্ডান এবং মুসলিম ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সম্মত হওয়া ব্যবস্থাকে বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষা করে আসছে ইসরায়েলিরা। তারা সেখানে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে সবার জন্য এ পবিত্র স্থানটি উন্মুক্ত করার দাবি জানায় ইসরায়েলিরা। এতেই শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। ফিলিস্তিনিদের শঙ্কা, ইসরায়েলি বাহিনী আগ্রাসন চালিয়ে স্থানীয় মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে বিভক্তি ও দ্বন্দ্ব চায়। 

টিটিএন