যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ওষুধ বিক্রি বন্ধে ব্যর্থতা এবং এর প্রেক্ষিতে আনিত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে মোট ৬০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এবং এর সহযোগী আরেক প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বুধবার (১ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ জানায়, আলিবাবা এবং AUS Merchant Services সমঝোতার অংশ হিসেবে তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে তাদের সহযোগিতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করতে রাজি হয়েছে।

মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য দুই প্রতিষ্ঠান নন-প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্টে (বিচারিক অভিযোগ ছাড়াই সমঝোতা) সই করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ফুড, ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে আলিবাবা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অবৈধ ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ এবং নকল ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি ও আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আলিবাবা জানায়, এই সমঝোতা একটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ফল। পুরো তদন্তে আলিবাবা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং অননুমোদিত পণ্য বিক্রি রোধে সর্বোচ্চ মানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নীতি ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিচার বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আলিবাবা প্রায় ৮০ হাজার অবৈধ রাসায়নিক, ওষুধ এবং নকল ওষুধ তৈরির যন্ত্রপাতি বিক্রি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব পণ্যের মোট লেনদেনের মূল্য ২০ কোটি ডলারেরও বেশি ছিল।

তদন্ত চলাকালে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গোপন অভিযানের মাধ্যমে ৪০টিরও বেশি অবৈধ ওষুধ ও নকল ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম ক্রয় করেন। এসব ওষুধ ও পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা আইনত নিষিদ্ধ।

বিচার বিভাগ আরও জানায়, বিভিন্ন সময়ে আলিবাবার কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অবৈধ পণ্য বিক্রি এবং বিদ্যমান কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেন, এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তাদের মার্কেটপ্লেসে অবৈধ, অননুমোদিত, ভুল লেবেলযুক্ত ও বিপজ্জনক বিদেশি ওষুধের বেচাকেনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কেএম