সুদের টাকা চাইতে এসেছিলেন পাওনাদাররা। কিন্তু সেই ক্ষোভ গিয়ে পড়ল পরিস্থিতি শান্ত করতে যাওয়া নিরপরাধ এক প্রতিবেশীর ওপর। ‘পাওনাদারদের ডেকে এনেছে’ এমন সন্দেহে প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম দুদু মোল্লাকে খুন করতে যায় এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসী নান্নু প্রামাণিক ও তার বাহিনী। দুদু মোল্লাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে গেলে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় হামলাকারীরা সাবিনার ডান হাতের তিনটি আঙুল কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে আঙুল নিয়ে উল্লাস করে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল গ্রামের মোল্লাপাড়ায় আবু তাহের মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত সাবিনা ইয়াসমিনকে (৩২) রাতেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীকোল গ্রামের কেরু প্রামাণিকের ছেলে নান্নু প্রামাণিক এলাকায় একজন মাদকাসক্ত, মাদক বিক্রেতা ও মাস্তান হিসাবে পরিচিত। কিছুদিন আগে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীকোল গ্রামের মো. আজাদের স্ত্রী নোমেছার কাছ থেকে টাকা ধার নেন নান্নু। নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন যুবক শ্রীকোল গ্রামে গিয়ে নান্নুকে টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেন। নান্নু প্রামাণিকের বাড়ি সিরাজুল ইসলাম দুদু মোল্লার বাড়ির পাশে হওয়ায় দুদু মোল্লা সেখানে যান। তিনি পাওনাদার লোকদের রাতের পরিবর্তে দিনের বেলায় আসার পরামর্শ দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। দুদু মোল্লার কথায় নোমেছার লোকজন তখন ফিরে যান।
কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নান্নু প্রামাণিক এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ মুক্তার, সাদ্দাম, বায়েজিদ প্রাং, শাকিব ও নাজমুল মন্ডল সন্দেহ করে যে, দুদু মোল্লাই ওই ব্যক্তিদের সেখানে ডেকে নিয়ে এসেছেন। এই সন্দেহের জের ধরে রাত ১১টার দিকে নান্নু ও তার বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুদু মোল্লার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দুদু মোল্লাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। স্বামীর ওপর হামলা হতে দেখে তাকে বাঁচাতে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন হাত দিয়ে কোপ ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও দু-তিনজন হামলাকারীদের আঘাতে আহত হন। এরপর সন্ত্রাসীরা আঙুলগুলো নিয়ে উল্লাস করে। এ সময় গ্রামবাসী জড়ো হলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সন্ত্রাসীরা তার স্বামীকে হত্যা করতেই এসেছিল। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আতাইকুলা থানার ওসি জানান, শ্রীকোল গ্রামের ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








