রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি বাড়ায় লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ডুবে গেছে পাকা সড়ক। এ অবস্থায় পদ্মার চরে অবস্থিত চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশিফতেপুর, দাদপুর, চকরাজাপুর, কালিদাসখালীসহ ১৫টি চরের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আজ সোমবার সকালে চকরাজাপুর-খয়েরহাট খেয়াঘাট সড়কের মাঝামাঝি পাকা সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এরই মধ্যে চকরাজাপুর-খয়েরহাট সড়কের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি জমেছে। ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করছেন চরাঞ্চলের মানুষ।

পানি আরও বাড়লে চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বসতবাড়িতে পানি ঢোকার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাঘা উপজেলার পদ্মায় ১৫টি চর রয়েছে। এসব চরে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ ভূমিহীন ও খেটে খাওয়া। শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজ এবং বর্ষায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। চরাঞ্চলগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।

চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে থেকেই পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এখন পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে ঢুকছে। বর্তমানে রাস্তার ওপর হাঁটুসমান পানি। এই পানির মধ্য দিয়েই মানুষ চলাচল করছে।’

কালিদাসখালী চরের কলেজশিক্ষার্থী আমিন ফয়সাল ও শুকতারা খাতুন বলেন, ‘প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই চরে বসবাস করতে হয়। পদ্মায় পানি বাড়ায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডিএম মনোয়ার হোসেন বাবলু দেওয়ান বলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় সহস্রাধিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, বিজিবি ক্যাম্পসহ হাজার হাজার বিঘা আবাদি ও অনাবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে গৃহহারা হয়েছেন হাজারো পরিবার।

বাবলু দেওয়ান আরও বলেন, পদ্মার মধ্যে থাকা ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন গঠিত। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে চরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবারও পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার পানি আরও বাড়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক এবং চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার অসুস্থ হয়ে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।