প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, “দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন; এই তিনটি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”শনিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সেই মানবিক ও প্রশাসনিক তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেন মুখপাত্র মাহদী আমিন।পাহাড় আর জলের মরণফাঁদে আটকে পড়া প্রতিটি প্রাণকে বাঁচিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তরের কর্মকর্তাদের এক সুতোয় বেঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী। মাহদী আমিন জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসন, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।মুখপাত্রের ভাষায়, “আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাদের মতামত নেবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়েছে।”দুর্গতদের উদ্ধারে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডকে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।”ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে যেন কোনো মানুষ ক্ষুধার্ত না থাকে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সরাসরি উপদ্রুত এলাকায় অবস্থান করছেন।মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন।”শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে চট্টগ্রাম বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের কথাও জানান তিনি।বন্যা শুধু বর্তমান কাড়েনি, রেখে যাচ্ছে ভবিষ্যতের ক্ষত। তাই পানি নেমে যাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে মেডিকেল টিম ও পুনর্বাসন তহবিল। সাপের কামড়ের ভ্যাকসিনসহ পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।মাহদী আমিন আশ্বস্ত করে বলেন, “পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত সড়ক ও রেলপথ সংস্কারের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে।”দুর্যোগের এই কঠিন ক্ষণে রাজনীতি ভুলে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে আছেন। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন স্বস্তি পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।”