টানা ভারি বর্ষণে বৃহস্পতিবার পাহাড়ধসে বান্দরবানের লামায় দুই পরিবারের পাঁচজন ও কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ভেসে গিয়ে রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের রাউজানে প্রাণ গেছে শিশুসহ তিনজনের। এর আগে সোম, মঙ্গল ও বুধবার কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে আরও ২১ জন মারা যান। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে টর্নেডো আতঙ্ক দেখা দেয়। জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপে সাত দিন ধরে নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজারে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বন্যা পরিস্থিতি। রাঙামাটির ৯৭ স্থানে হয়েছে পাহাড়ধস। পানিতে ডুবে আছে খাগড়াছড়ির সাজেক সড়ক। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বরিশাল, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও শেরপুরে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে নদ-নদীর পানি। কুমিল্লায় ফসলহানি হয়েছে সহস্রাধিক কৃষকের। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অতি ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। স্টাফ রিপোর্টার, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বান্দরবান ও লামা : লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে পাহাড়ধসে শিশুসহ দুই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন-আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার মো. ইউনুস, তার স্ত্রী রানু আক্তার, ছেলে মো. সোলেমান এবং মো. জুয়েল, তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। জেলার বান্দরবান-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কসহ সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসে পড়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে পাহাড়ধসে সড়কের মাটি জমে যাওয়ায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের তিনটি স্থানে এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কে পানি ওঠায় লামা-আলীকদম উপজেলা সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। জেলা শহরের কালাঘাটা, বনরূপাপাড়া, লেমুঝিরি এলাকায় পাহাড়ধসে বৃহস্পতিবারও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাকখালী তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চকরিয়া (কক্সবাজার) : বৃহস্পতিবার ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে দুই ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলো স্থানীয় মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে সুমি (১৭) এবং কাজলের ভাই আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ তাওসিফ (১১)। চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। তিন উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং সড়কে পানি ওঠায় যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বানের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে বসতঘর ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাঙামাটি : বৃহস্পতিবার সর্বশেষ জেলার শতাধিক স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নিতে নির্দেশনা দিচ্ছে প্রশাসন। পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে রাঙামাটি সদরের মগবান এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরিস্থিতি তদারকিসহ দুর্গত লোকজনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ-সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে মো. বদি মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ইউনিয়নের গোয়াইনছড়ি এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে নদী পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে দলমনি চাকমা নামে একজন মারা গেছেন। দলমনি মঙ্গলবার নদী পারাপারের সময় পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন। বৃস্পতিবার সকালের দিকে ওই এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও টিলাধসে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

চট্টগ্রাম, রাউজান, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী : দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। ৩ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে ফেরি ও স্টিমার চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দ্বীপটি। বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ এলাকায় আকস্মিক ঘূর্ণিবাতাসে দুটি বসতঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। এতে উপকূলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও সব উপজেলা প্রশাসন কার্যালেয় ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জেলার ১৪ উপজেলার প্রায় সবটিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দে অবস্থানরত মানুষদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। রোববার থেকে টানা বর্ষণে পটিয়া, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, হাটহাজারী, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী এবং রাউজান উপজেলার নিচু এলাকায় লোকালয়ে পানি উঠে গেছে। এসব উপজেলার লাখ লাখ বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া, সাতকানিয়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের খেত ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাউজান উপজেলায় নালার স্রোতে ভেসে গিয়ে মোহাম্মদ মোস্তাকিম (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মোস্তাকিম ওই এলাকার মোহাম্মদ পারভেজ হোসেনের ছেলে। এ ছাড়া সাতকানিয়া উপজেলার কারিয়াইশ এলাকার ডলু নদীতে পানির সঙ্গে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে আব্দুল আলিম নামে এক যুবক নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কারিয়াইশ ইউনিয়নের মাইঙ্গাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আব্দুল আলিম ওই এলাকার ভেট্টা মিয়ার ছেলে।

খাগড়াছড়ি : বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাজেক-খাগড়াছড়ি সড়কের দীঘিনালা-কবাখালি অংশ এবং বাঘাইহাট, মাচালং এবং সীমানাছড়া-চারটি পয়েন্টে এখনো সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সাজেকের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দীঘিনালার মেরুং এলাকার প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চেঙ্গী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে রাঙামাটির সাথে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মহালছড়ির জামতলা এবং কালাপাহাড় এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় সেখানে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মহালছড়ি উপজেলা সদরের সঙ্গে মুবাছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজার জেলার সব নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত সব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। কমলগঞ্জের ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিলা এবং গঙ্গানগর নামক দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামসহ উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কমলগঞ্জ- আদমপুর সড়কে যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

বরিশাল : নগরীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে থেমে থেমে ভারি বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ভোলা ও মনপুরা : জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের ৪ ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বৃষ্টির পানিতে পানিবন্দি হয়ে আছে। এছাড়া মনপুরা ইউনিয়নের ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। মনপুরার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

নোয়াখালী ও হাতিয়া : দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বসতঘর, ফসলের মাঠ, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা। কৃষকরাও চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ষান্মাসিক ও প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার : ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে আকস্মিক বন্যা ও টিলাধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। পাশাপাশি ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এতে দুই জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলার পাঁচটি পয়েন্টের মধ্যে তিনটিতে নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুমিল্লা : উজানের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বেড়ে নদীর চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কৃষকরা কোমরসমান পানিতে নেমে যা সম্ভব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন।

শেরপুর : শেরপুরের পাহাড়ি বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের কারণে বিভিন্ন নদীর পাড় ভেঙে ঢলের পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিভিন্ন পাকা সড়ক এবং নদীর পাড় ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে নাকাল অবস্থায় রয়েছে সীমান্তবাসী।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) : ভূঞাপুরে সর্বত্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং সরকারি খালগুলো বেদখল ও ভরাটের ফলে এমনটি হয়েছে বলে জানান নাগরিকরা।

কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) : কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাকুন্দিয়া উপজেলার গ্রামের নিচু এলাকার রাস্তাঘাট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তিতে হচ্ছে।