ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা উড়তে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জগতেও ‘আর্জেন্টিনার পতাকা’ নামে পরিচিত বিশেষ একটি চিহ্ন রয়েছে, যা চোখের পাকা ছানি অপারেশনের সময় দেখা দিতে পারে। চক্ষুচিকিৎসকদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অবস্থা।

চোখের ভেতরে স্বচ্ছ কাচের মতো একটি অংশ রয়েছে, যাকে লেন্স বলা হয়। এই লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা বা অস্বচ্ছ হয়ে গেলে তাকে ছানি বলা হয়। ছানি হলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই ছানি। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

পরিপক্বতার ভিত্তিতে ছানি সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে—

সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বয়সজনিত ছানি। এ ছাড়া ছানি হওয়ার আরও কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো—

ছানির একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হলো অপারেশন। ওষুধ অথবা চশমা দিয়ে ছানি ভালো করা যায় না। অপারেশনের সময় অস্বচ্ছ লেন্স অপসারণ করে তার জায়গায় কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়।

পাকা বা মোটা হওয়া ছানির ক্ষেত্রে অপারেশনের সময় একটি বিশেষ জটিলতা দেখা দিতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আর্জেন্টিনা ফ্লাগ সাইন বলা হয়।

স্ফীতিশীল কিংবা মোটা হতে থাকা ছানিতে লেন্সের ভেতরের চাপ বেড়ে যায়। অপারেশনের সময় লেন্সের আবরণ বা ক্যাপসুল কাটতে গেলে সেটি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছিঁড়ে যায়। অপারেশনের আগে ক্যাপসুলকে ট্রাইপেন ব্লু নামক নীল রঞ্জক দিয়ে রং করা হয়। ফলে সাদা লেন্স ও নীল রঙের ক্যাপসুলের সমন্বয়ে দৃশ্যটি দেখতে অনেকটা আর্জেন্টিনার পতাকার মতো মনে হয়। এখান থেকে এসেছে ‘আর্জেন্টিনার পতাকা চিহ্ন’ নামটি।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৩ থেকে ২৮ জনের ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অনেক রোগী ভয় বা অবহেলার কারণে ছানি অতিরিক্ত পেকে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এতে অপারেশনের ঝুঁকি ও জটিলতা—দুটোই বেড়ে যায়। সে কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে দ্রুত চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং অভিজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে সময়মতো অপারেশন করিয়ে নেওয়া জরুরি।

সময়মতো চিকিৎসা নিলে ছানিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। এতে সুস্থ দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন বজায় রাখা যায়।

ডা. মো. আরমান হোসেন রনি, কনসালট্যান্ট (চক্ষু), দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল, সোবহানবাগ, ঢাকা