ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে ব্যাপক রদবদলের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তীব্র সমালোচনা করেছেন শহীদ আফ্রিদি। টানা দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করার পর সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বিস্ময়কর মনে হচ্ছে তাঁর কাছে।

হেডিংলি ও লর্ডসে টানা হারের পর এজবাস্টন টেস্টকে সামনে রেখে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পিসিবি। সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠানোর পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদের পরিবর্তে পাকিস্তানের সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিরিজের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না আফ্রিদি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি বা কারণটা কী, তা বুঝতে পারছি না!’

বিশেষ করে বদলি হিসেবে দলে নেওয়া ক্রিকেটারদের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিদি। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞদের দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তেরও কোনো ব্যাখ্যা নেই, ‘এমনকি বদলি খেলোয়াড় নির্বাচনেও কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছি না—ইংল্যান্ডে একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হয়েছে? এটা কেমন চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি?’

মাত্র পাঁচটি টেস্ট ম্যাচের পর প্রধান কোচের পদ থেকে সরফরাজকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। আফ্রিদির প্রশ্ন, ‘মাত্র পাঁচটি টেস্ট ম্যাচের পরই কেন কোচকে বরখাস্ত করা হলো?’ নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, ‘এত অভিজ্ঞ নির্বাচক থাকা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচক কমিটির নেওয়া এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত।’

বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছেন সালমান আলী আগা, যিনি সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ওপেনার ইমাম-উল-হকও জায়গা হারিয়েছেন।

হালকা মাত্রার কাফ ইনজুরির কারণে লর্ডস টেস্টের দুই ইনিংসের কোনোটিতেই ব্যাট করেননি ইমাম। এ ছাড়া দুই ম্যাচে ছয় উইকেট নেওয়া পেসার খুররম শাহজাদ ও স্পিনার আলী উসমানকেও দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলে থেকেও এখনো কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়া আমির জামাল ও মোহাম্মদ আওয়াইস জাফরও রয়েছেন বাদ পড়াদের তালিকায়।

দ্রুত সময়ে দলে ডাকা সাত বদলি ক্রিকেটারের মধ্যে কেবল সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের দল নির্বাচন ও পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।