সংস্কারের অভাবে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়ার আশঙ্কা নিয়েই সেখানে নিয়মিত চলছে পাঠদান, ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রয়েছেন আতঙ্কে। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের ভবনের বেহাল অবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
রোববার (৫ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির এমন দুরবস্থার চিত্র।
জানা গেছে, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের দুটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। যার মধ্যে ১৯৯২ একটি ও ২০০২ সালে নির্মিত একটি ভবন। এই দুটি ভবনেরই দেয়ালের রং উঠে গেছে, সিঁড়ি, বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, মেঝে ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পলেস্তারা খসে মরিচা ধরা রডও বের হয়ে আছে। শুধু তাই নয়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটলও দেখা দিয়েছে। অপর ভবনের নিচের অংশে পুকুরের দিকে মাটি সরে যাওয়ায় পিলারও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে নিজেদের ও শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান করাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের শ্রেণিকক্ষ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সিঁড়ি ও বিমে ফাটল, মেঝেতে বড় বড় গর্ত এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মরিচা ধরা রড বের হয়ে আছে। যেকোনো সময় ফ্যান ও পলেস্তারা খসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ক্লাস চলাকালে পুরোটা সময় আমরা আতঙ্কে থাকি।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোকলেছুর রহমান মামুন বলেন, ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ক্যামেলিয়া রায় রাজশ্রী এবার প্রাথমিক পর্যায়ে নৃত্য পরিবেশন করে দেশ সেরা পুরস্কার এনেছে। এটি আমাদের গর্ব। বিদ্যালয়টি শুধু পাঠদান না, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিদ্যালয় ভবনের যে অবস্থা, তাতে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। আমরা চাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পাঠদানের সু-ব্যবস্থা করা হোক।
কথা হয় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়জুল আরাফাত পলাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমান ২৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় তারা ১০ জন শিক্ষক বাধ্য হয়েই এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান করাচ্ছেন। শুধু শ্রেণি কক্ষ না, শিক্ষকদের কমনরুম থেকে শুরু করে ভবনের সব জায়গাতেই জরাজীর্ণ।
বিদ্যালয়ের ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি ৪৪ শতক জায়গা নিয়ে স্থাপিত। কিন্তু ৩০ শতক জায়গা নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। আমরা খুব শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শন করে সেটার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো৷
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সম্পর্কে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম এ মালেক/এনএইচআর/জেআইএম








