খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট এবং অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই সাধারণ মানুষকে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে। অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে সড়ক বন্ধ রাখলেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের যেন কিছুই করার নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানছড়ি বাজার থেকে লোগাং ও গৌরাঙ্গপাড়ায় ফুটপাতে দোকান বসিয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেছে। বিশেষ করে মুদি দোকানী, হার্ডওয়্যার ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে রেখেছেন। তাঁরা পুরো ফুটপাত জুড়ে পেঁয়াজ-রসুনের ঝুড়ি, রড, সিমেন্ট, পানির ড্রাম, লোহার যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছেন। এ ছাড়া ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। জায়গা না পেয়ে স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত শাক-সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সড়কের ওপর বসেই বিক্রি করছেন। এতে সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় পথচারীরা জানান, ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সুযোগ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই শিশু, নারী ও বয়স্কসহ সবাই ব্যস্ত সড়ক দিয়েই চলাচল করছেন।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফুটপাতে হাঁটার কোনো জায়গাই নেই। বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
স্থানীয় অটোভ্যানচালক রুবেল বলেন, ‘ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় রাস্তা অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। তার ওপর অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল করায় যাত্রীদের অনেক সময় সড়কের ওপরই ওঠানামা করতে হয়। বড় যানবাহন এলে সাইড দিতে সমস্যা হয়। ফলে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।’
পানছড়ি বাজার উন্নয়ন ও পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘আগেও ব্যবসায়ীদের ফুটপাত পরিষ্কার রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসন যদি অবৈধ দখল উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়, বাজার পরিচালনা কমিটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’
পানছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা বলেন, ‘এটি প্রশাসনিক বিষয়। প্রশাসন চাইলে সহজেই সমস্যার সমাধান করতে পারে। উচ্ছেদ অভিযানে আমাদের প্রয়োজন হলে অবশ্যই সহযোগিতা করব।’
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বাজার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








