দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম এবং অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষায় টেকসই অর্থায়ন’ শীর্ষক অংশীজন সংলাপে বক্তারা বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা হলেও ধারাবাহিক অর্থায়নের অভাবে এ বিষয়ে নেওয়া কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান জানান, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অধিকাংশ দুর্ঘটনা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ঘটে। তাই শিশুদের নিরাপদ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা জরুরি।

সমষ্টির গবেষণা ও যোগাযোগ পরিচালক রেজাউল হক বলেন, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতি বছর ১৮ হাজারের বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে নির্দিষ্ট অর্থায়ন ও বাজেট কাঠামো প্রয়োজন। এছাড়া আইসিবিসি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে শুধু একটি প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং ধারাবাহিক সামাজিক সেবা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। অর্থ বিভাগের উপসচিব জামিরা শবনম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় গণমাধ্যম ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) মাধ্যমে এ কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, সরকারি অর্থায়ন হবে এ কার্যক্রমের মূল ভিত্তি। তবে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় সরকার ও সামাজিক উদ্যোগকে সম্পূরক অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অর্থায়ন, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ, স্থানীয় সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 আরএমএম/এমএসএম