সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি জানিয়েছেন, বায়ু, শব্দ ও নদী দূষণ রোধে সরকার কঠোর নজরদারির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে।বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করবেন। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি প্রকল্পের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এখন আমরা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছি এবং নজরদারি বাড়ানো হবে। বায়ু ও নদী দূষণ রোধেও সরকার কাজ করছে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব ধরনের দূষণের মাত্রা কমতে শুরু করবে।’ইটভাটা জনিত বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ইটভাটার দূষণ কমাতে অটো ব্রিক ও ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তবে এগুলোর উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সব ইটভাটা হুট করে বন্ধ করা সম্ভব নয়, কারণ তাতে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না, কিন্তু আমাদের নির্বাচিত সরকারের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি আছে। আমরা ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করছি।’বনায়ন কর্মসূচিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এবার রোপিত চারাগাছ ও সৃজন করা বন স্যাটেলাইট, ড্রোন প্রযুক্তি এবং ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি হবে।দূষণবিরোধী অভিযানের তথ্য তুলে ধরে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৫২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ১১২টি অবৈধ কারখানার সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং গত চার মাসে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৮১ একরের বেশি জবরদখলকৃত বনভূমি।বনায়ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন এবং ১৯৭৯ সালে প্রথম বন নীতি প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে টেকসই বাংলাদেশ গড়তে চায়।’সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকায় মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি ৭টি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিন, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিন এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার মেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে।সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।