আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন এক পরীক্ষার্থী। এজন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দেশে আইনজীবীদের একমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

আরেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় সাদা খাতা জমা দিয়েও তা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করায় তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পৃথকভাবে এসব নোটিশ দেওয়া হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

মুহাম্মদ সাইফুল আমিনের নোটিশে বলা হয়, গত বছরের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষায় আপনি একজন প্রার্থী ছিলেন। পরীক্ষার ফলাফল গত ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। ফলাফল প্রকাশের পরপরই যেসব প্রার্থী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছিলেন তাদের যৌক্তিক কারণ থাকা সাপেক্ষে লিখিত পরীক্ষায় ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য অনলাইনে রিভিউ দরখাস্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আপনিও একজন রিভিউ আবেদনকারী প্রার্থী ছিলেন।

নোটিশে আরও বলা হয়, লিখিত পরীক্ষা-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত আপনার উত্তরপত্রে দৃষ্ট হয় যে, আপনি পরীক্ষায় সম্পূর্ণ সাদা খাতা দিয়েছিলেন। বিষয়টি এনরোলমেন্ট কমিটির গোচরীভূত হয়েছে এবং কমিটি এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। যে লিখিত পরীক্ষায় আপনি উত্তরপত্রে একটি অক্ষরও লিখেননি তথা সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা দিয়েছেন, সেই পরীক্ষার সাদা উত্তরপত্র কিসের ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলেন এবং কোন মানদণ্ডে বা কোন প্রক্রিয়ায় আপনার সেই ‘অদৃশ্য’ বা ‘কাল্পনিক’ প্রশ্নোত্তর রিভিউ করা যেত, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সেই মর্মে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ‘সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’ বরাবর কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলো।

আরও পড়ুন

বার কাউন্সিলের এমসিকিউতে পাস করলেন জাইমা রহমান, ৯২০১ জন উত্তীর্ণ

আরেক পরীক্ষার্থী সাইদুল ইসলামের নোটিশে বলা হয়, আপনি একজন রিভিউ আবেদনকারী প্রার্থী ছিলেন। তবে লিখিত পরীক্ষা-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় যে, আপনি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি এনরোলমেন্ট কমিটির গোচরীভূত হয়েছে এবং কমিটি এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যে লিখিত পরীক্ষায় আপনি অংশগ্রহণ করেননি সেই পরীক্ষার উত্তরপত্র বা ফলাফল কীসের ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলেন এবং কোন মানদণ্ডে বা কোন প্রক্রিয়ায় আপনার সেই ‘অদৃশ্য’ বা ‘কল্পিত’ উত্তরপত্র রিভিউ করা যেত, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সেই মর্মে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ‘সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’ বরাবর কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলো।

এফএইচ/একিউএফ