বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সূর্যাস্তের পরও জাতীয় পতাকা উড়িয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এই অনিয়মের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী জাতীয় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত রাখার নিয়ম থাকলেও সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭ টার পর উপজেলা পরিষদ ভবনে পতাকা উড়তে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় সাংবাদিক আল-আমিন ফোরকান একটি ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে পোস্ট করেন। অভিযোগ উঠেছে, এর কিছুক্ষণ পরই একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।এই ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পাথরঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আল-আমিন ফোরকান। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হুমকিদাতার কণ্ঠস্বর উপজেলা পরিষদের নৈশপ্রহরী পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের কণ্ঠের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তার সন্দেহ হচ্ছে। সাংবাদিক আল-আমিন বলেন, "হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, "সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"এদিকে জাতীয় পতাকার অবমাননা ও সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মো. জিয়াউল করিম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জাতীয় পতাকা নামানোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গাফিলতি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।/