সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমেছে। তবে এই পতনের বাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দাপট দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড। অবশ্য মিউচুয়াল ফান্ডের এই দাপট সূচকের পতন ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে ডিএসইতে মূল্যসূচকের পতন হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমলেও অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। এরপরও বাজারটিতে মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে মিউচুয়াল খাত। লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যে বেশকিছু মিউচুয়াল ফান্ড দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় চলে আসে। লেনদেন শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট অব্যাহত থাকে। কিন্তু অন্যখাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

আরও পড়ুন

বিধিমালার খসড়া প্রকাশ / ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৫টির এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ২৯টি মিউচুয়াল ফান্ডর দাম বাড়ার বিপরীতে ১টির দাম কমেছে এবং ৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৭টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১২৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন

ব্যাংক-বিমা-মিউচুয়াল ফান্ডের দাপটে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান 

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইটি কনসালটেন্টসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফারইস্ট নিটিং।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ফুওয়াং সিরামিক, স্যালভো কেমিক্যাল, সিটি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, সায়হাম কটন এবং ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৫১ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৮টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ২ লাখ টাকা।

এমএএস/ইএ