পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে লর্ডেস সঙ্গে জড়িয়ে আছে একের পর এক স্মরণীয় অধ্যায়। ২০১৮ সালে সর্বশেষ এই মাঠে টেস্ট খেলতে নেমে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল পাকিস্তান। মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আমিরের দুর্দান্ত পেস আক্রমণের সামনে সেবার ইংলিশ ব্যাটিং টিকতেই পারেনি। তারও দুই বছর আগে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে একই মাঠে ৭৫ রানের জয় পেয়েছিল পাকিস্তান, যে জয়ের পর মিসবাহর পুশ-আপ উদযাপন এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে।
তবে লর্ডসে পাকিস্তানের গল্প আরও পুরোনো। ১৯৮২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বে এই মাঠেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় পায় পাকিস্তান। সেই ম্যাচে ইতিহাস গড়েছিলেন ওপেনার মোহসিন খান। লর্ডসে পাকিস্তানের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ম্যাচে ব্যাট হাতে মোহসিনের পাশাপাশি বল হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন মুদাসসার নজর। শেষ পর্যন্ত ১০ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।
সেই ঐতিহাসিক ইনিংসের কথা স্মরণ করে মোহসিন খান বলেন, ‘লর্ডসে ডাবল সেঞ্চুরি করা নিঃসন্দেহে দারুণ অনুভূতি ছিল। তবে আমার কাছে আরও বড় তৃপ্তির বিষয় ছিল, এই ইনিংসটি পাকিস্তানের জয়ে অবদান রেখেছিল।’
লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের রেকর্ডও বেশ ভালো। ১৯৫৪ সালে প্রথমবার এই মাঠে টেস্ট খেলার পর এখন পর্যন্ত পাকিস্তান জিতেছে পাঁচটি, হেরেছে চারটি এবং ড্র করেছে ছয়টি ম্যাচ। ১৯৯২ ও ১৯৯৬ সালের জয়েও বড় ভূমিকা ছিল পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের।
কিন্তু ২০২৬-এর পাকিস্তান? স্মৃতির লর্ডস আর বর্তমান পাকিস্তান, দুটি ছবি যেন সম্পূর্ণ আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার মধ্যে থাকা পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কাছেও টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলিতে আগের ম্যাচটিও তিন দিনের মধ্যে হেরে গিয়েছে পাকিস্তান। এমন অবস্থায় লর্ডসে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তাই কঠিন।
মোহসিন খানের চোখেও বর্তমান পাকিস্তান দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতি মানসিকতায়। তিনি বলেন, ‘বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই লড়াইয়ের মানসিকতা এবং জয়ের জন্য মরিয়া মনোভাবের ঘাটতি আছে, যা একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেট সংস্কৃতির অংশ ছিল।’
কেন এমন অবস্থা? এই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মহসিন বলেন, ‘বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, তারা পারফর্ম করুক বা দল ভালো করুক কিংবা না করুক, জাতীয় দলে তাদের জায়গা নিশ্চিত থাকবে। তাই জবাবদিহিরও কোনো ব্যবস্থা নেই।’
ইমরান খানের নেতৃত্বের উদাহরণ টেনে মোহসিন আরও বলেন, ‘ইমরান নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুবই কঠোর ছিলেন। যারা পারফর্ম করত, কেবল তাদেরই দলে রাখার নিয়ম তিনি কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন। পারফর্ম করতে না পারলে তাদের বাদ দেওয়া হতো।’
তাই লর্ডস পাকিস্তানের জন্য আশার জায়গা হলেও বাস্তবতা কঠিন। তবে পাকিস্তানের জন্য আশার ব্যাপার হচ্ছে, চোট কাটিয়ে অধিনায়ক বাবর আজমের অনুশীলনে ফেরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ লর্ডস টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনা আছে। দলটির বোলিং কোচ উমার গুল বলেছেন, নেট সেশনে ভালো অবস্থায় দেখা গেছে অধিনায়ককে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথমবার আঙুলে চোট পান বাবর। পরে ইংল্যান্ড সফরে প্রস্তুতি ম্যাচে একই আঙুলে আঘাত পেলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। আর এতে হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে পারেননি তারকা এই ব্যাটসম্যান।








