চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খালের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। চৌরাঙ্গী বাজারের খালের দুই পাশে নির্মাণ করা হয়েছে কমবেশি ২০ বছরে ৩১টি পাকা ও আধাপাকা দোকানঘর। এতে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। দখলের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০০৪ সাল থেকে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী স্থানীয় কিছু ব্যক্তি দখল প্রক্রিয়ায় জড়িত। তারা লিজের দাবি করলেও প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে খালের জমি লিজ দেয়ার কোনো বিধান নেই। খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে কেউ কেউ ভাড়া আদায় করেছে। এসব খাল রাষ্ট্রের, কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। খাল দেশের জলপ্রবাহ ব্যবস্থার অংশ। সেটা দখল হলে শুধু পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় না, সেচব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সময়, যখন অতিবৃষ্টি ও অনিয়মিত আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, তখন প্রাকৃতিক জলপথ সংরক্ষণ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হলো, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অবৈধ স্থাপনা টিকে থাকলো কীভাবে? রাষ্ট্রের কোনো সম্পদ এক দিনে দখল হয় না, আবার এক দিনেও সেখানে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি হয় না। খাল দখল হয়েছে ধাপে ধাপে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। আমরা বলতে চাই, অবৈধ দখল থেকে খালটি উদ্ধার করতে হবে। যদি অবৈধ দখল বছরের পর বছর টিকে থাকে, তাহলে আইন মানার সংস্কৃতি দুর্বল হয়। উচ্ছেদ অভিযানই শেষ কথা নয়। অতীতে দেখা গেছে, অনেক স্থানে উচ্ছেদের পর আবারও দখল হয়ে গেছে। খালের সীমানা স্থায়ীভাবে চিহ্নিত করতে হবে। নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে খাল রক্ষার অংশীদার করতে হবে।
রাজনীতি
ফরিদগঞ্জের খাল উদ্ধার করুন

শেয়ার করুন







