ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোরে উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা সমিতি বাজার এলাকার একটি পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
নিহত যুবলীগ নেতার নাম যোবায়ের হোসেন (৩৫)। তিনি ওই এলাকার নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন।
পুলিশ জানায়, নিহত যোবায়েরের নামে বিভিন্ন অভিযোগে ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্তি সন্ত্রাসী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া তাঁর খামারের গরুও লুট করা হয়। পুলিশের ধারণা, পূর্ববিরোধের জেরে যোবায়ের হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় দুই যুবকের সঙ্গে যোবায়েরের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। রাতে যোবায়েরকে ওই দুই যুবক আবার দোকানে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। এর পর থেকে যোবায়েরের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকার একটি পুকুরে যোবায়েরের লাশ ভেসে থাকতে দেখেন।
ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক রতন দেবনাথ জানান, যোবায়েরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুজন যুবক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, নিহত যোবায়েরের বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ ৩০টির অধিক মামলা রয়েছে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁর বাবা দুপুরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যোবায়েরের হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।








