দিনের শুরু হোক বা দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার শেষে, মুখ পরিষ্কার করা ত্বকের যত্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। সারাদিনের ধুলাবালি, ঘাম, অতিরিক্ত তেল, সানস্ক্রিন ও দূষণের প্রভাব দূর করতে একটি ভালো ক্লিনজার অপরিহার্য। তবে শুধু মুখ ধুলেই হবে না, ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ক্লিনজার বেছে নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাজারে ফোমিং ফেসওয়াশ, জেল ক্লিনজার, ক্রিম ক্লিনজার, অয়েল ক্লিনজারসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, কোনটি তাদের ত্বকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বিশেষ করে ফোমিং ফেসওয়াশ ও জেল ক্লিনজার নিয়ে বিভ্রান্তি বেশি দেখা যায়। দুটি পণ্যই মুখ পরিষ্কার করতে কার্যকর হলেও ত্বকের ধরন অনুযায়ী এগুলোর কাজ ভিন্ন হতে পারে।
ফোমিং ফেসওয়াশ কী?
ফোমিং ফেসওয়াশ সাধারণত জেল বা ক্রিমের মতো দেখতে হলেও পানি লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘন ফেনা তৈরি করে। আবার কিছু প্যাকেজিংয়ে বোতল চাপ দিলেই সরাসরি ফোম বের হয়।
এ ধরনের ফেসওয়াশে সাধারণত সারফ্যাক্ট্যান্ট নামের পরিষ্কারকারী উপাদান থাকে, যা ত্বকের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ঘাম, ধুলাবালি, সানস্ক্রিন এবং হালকা মেকআপের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, কম্বিনেশন বা ব্রণপ্রবণ, তাদের জন্য ফোমিং ফেসওয়াশ বেশ উপযোগী হতে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি মুখকে সতেজ অনুভূতি দেয় এবং অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে।
তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করলে বা ত্বকের জন্য উপযুক্ত না হলে এটি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতাও কমিয়ে দিতে পারে। ফলে শুষ্কতা বা টানটান ভাব দেখা দিতে পারে।
জেল ক্লিনজার কী?
জেল ক্লিনজার সাধারণত স্বচ্ছ বা হালকা জেল আকারের হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করলে খুব বেশি ফেনা তৈরি হয় না।
এ ধরনের ক্লিনজারে ত্বককে শান্ত রাখা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে। তাই সংবেদনশীল, শুষ্ক বা সহজেই লাল হয়ে যাওয়া ত্বকের জন্য জেল ক্লিনজার অনেক সময় ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
এটি মুখ পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক ময়েশ্চার ব্যারিয়ার অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করে। অনেক জেল ক্লিনজারে অ্যালোভেরা, গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো হাইড্রেটিং উপাদানও থাকে।
আরও পড়ুন
দামি প্রসাধনী নয়, যেসব অভ্যাসে চুল হবে ঝলমলে ও উজ্জ্বল
কোনটি আপনার জন্য ভালো?
ফোমিং ফেসওয়াশ এবং জেল ক্লিনজার-দুটিই কার্যকর। তবে কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করবে আপনার ত্বকের ধরন ও প্রয়োজনের ওপর। যদি আপনার ত্বক খুব তৈলাক্ত হয়, মুখে সহজেই তেল জমে বা ব্রণের সমস্যা থাকে, তাহলে ফোমিং ফেসওয়াশ ভালো কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে ত্বক যদি শুষ্ক, সংবেদনশীল বা সহজেই জ্বালাপোড়া করে, তাহলে জেল ক্লিনজার তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।
যাদের ত্বক স্বাভাবিক বা কম্বিনেশন, তারা দুটি ধরনের ক্লিনজারই ব্যবহার করে দেখতে পারেন। যেটি ব্যবহারের পর ত্বক পরিষ্কার, আরামদায়ক ও স্বাভাবিক অনুভূত হয়, সেটিই আপনার জন্য উপযুক্ত।
আরও পড়ুন
ত্বককে সতেজ রাখতে বাড়িতে বানান নিমের ফেসওয়াশ
কেনার আগে যা দেখবেন
ক্লিনজার কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড নয়, এর উপাদান তালিকাও পড়ে দেখুন। ত্বকের জন্য উপযোগী ও মৃদু উপাদান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। অ্যালকোহল, অতিরিক্ত সুগন্ধি বা ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে, এমন উপাদান থাকলে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, বি বিউটিফুল
এসএকেওয়াই








