ইসমাইল সাইবারি মরক্কো ও নেদারল্যান্ডস ম্যাচে পেনালটি শুটআউটে শেষ গোল করে মরক্কোকে তুলে দেন রাউন্ড অফ ১৬-এ। নেদারল্যান্ডস ছিটকে গেল। সাইবারি স্পটকিক নেওয়ার আগে বিড়বিড় করে কী যেন বলছিলেন। মরক্কোর এই গোলস্কোরার এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বায়ার্ন মিউনিখে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলারের ট্রান্সফার ফি’তে যোগ দেওয়ার আগে সাইবারি সপ্তাহে মাত্র ১৯,২০০ ইউরো আয় করতেন। সেসময় তার প্রেমিকা সাইবারিকে বলেছিলেন, ‘আমার খরচ বহন করতে পারবে না তুমি।’ প্রেমিকার কথায় অসম্মানিত সাইবারির কাছে পৃথিবী যেন ভেঙে পড়েছিল। সাইবারি পরিশ্রম, দক্ষতা ও ক্ষমতার জোরে বায়ার্ন মিউনিখে সই করলেন। তখন প্রেমিকা আবার সাইবারির কাছে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। সাইবারি তাকে ফিরিয়ে নেননি। এক সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম সাইবারির। বাবা হাসান ছিলেন রাজমিস্ত্রি। মা ফাতিমা গৃহিণী। পরিবারের অবস্থা সচ্ছল ছিল না। ছেলেবেলা থেকে সাইবারির জীবনের সঙ্গী ছিল ফুটবল। মাঠে, রাস্তায়, পার্কে ফুটবলই ছিল তার বন্ধু। ২০০৭ সালে আর্থিক সংকটে সাইবারির পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বাবার চাকরি চলে যায়, ছোট ব্যবসাও টেকেনি। শেষ পর্যন্ত সুরক্ষিত ভবিষ্যতের আশায় সাইবারির পরিবার চলে যায় বেলজিয়ামে। আন্ডারলেখট, কেআরসি শেঙ্কের যুব একাডেমিতে নিজেকে গড়ে তোলার পর ২০২০ সালে তিনি যোগ দেন পিএসভি আইন্ডহোভেনে। সেখানেই তার উত্থান। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা এবং আক্রমণে বহুমুখী দক্ষতা তাকে ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার হিসাবে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়। জাতীয় দলেও সাইবারি হয়ে ওঠেন অপরিহার্য। রবার্তো মার্তিনেজ একসময় তাকে বেলজিয়ামের হয়ে খেলতে ডেকেছিলেন। কিন্তু সাইবারির হৃদয়ে ছিল মরক্কো। সেই স্বপ্নকেই বেছে নেন তিনি।
বিশ্বকাপ সাইবারিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে তিনটি গোল করেছেন। শেষ বত্রিশে টাইব্রেকারের শেষ শট নিতে এগিয়ে আসেন সাইবারি। চাপ ছিল পাহাড়সম, কোটি সমর্থকের হৃদস্পন্দন যেন থেমে গিয়েছিল। কিন্তু বড় খেলোয়াড়রা প্রয়োজনের সময় জ্বলে ওঠেন। সাইবারির গোলে মরক্কো পৌঁছে যায় শেষ ষোলোতে। আবারও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে আটলাসের সিংহরা।








