ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। একই সঙ্গে ধান কাটার পর বিপুল পরিমাণ খড় অব্যবহৃত থেকে যায় বা খোলা মাঠে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। এই দুই বর্জ্যকে উপাদান হিসাবে ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব কম্পোজিট টাইলস তৈরি করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের শিহাব উদ্দিন সরকার ও পলাশ চন্দ্র রায়।

পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিককে মূল উপাদান এবং পাটের তন্তু, ধানের খড়ের তন্তু ও এ দুয়ের মিশ্রণকে শক্তিবর্ধক উপাদান হিসাবে ব্যবহার করে তারা পরিবেশবান্ধব টাইলস তৈরি করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুপাতে প্লাস্টিক ও প্রাকৃতিক তন্তুর সমন্বয়ে তৈরি টাইলসগুলোর যান্ত্রিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা, বিশ্লেষণ এবং সর্বোত্তম গঠন নির্ধারণ করা হয়েছে। আইপিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে তারা ‘Development & Optimiæation of Recycled Composite Plastic Tiles Reinforced with Natural Fiber (Jute Fiber & Rice Strwa Fiber)’ শিরোনামের গবেষণাটি করেছেন।

গবেষণার জন্য পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক, পলিথিন, পাটের তন্তু এবং ধানের খড় সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর বিভিন্ন অনুপাতে মোট নয়টি পরীক্ষামূলক নমুনা তৈরি করা হয়। প্রতিটি নমুনার শক্তি ধারণক্ষমতা, পানি শোষণ, অগ্নি প্রতিরোধক্ষমতা এবং অন্যান্য ভৌত বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে বিশেষ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে সর্বোত্তম উপাদান সমন্বয় নির্ধারণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি কম্পোজিট টাইলসগুলো উল্লেখযোগ্য যান্ত্রিক শক্তি, তুলনামূলক কম পানি শোষণ এবং সন্তোষজনক অগ্নি প্রতিরোধে সক্ষম। গবেষকদের মতে, এসব টাইলস ভবিষ্যতে ফুটপাত, পার্ক, বাগানের হাঁটার পথ, ছাদ এবং অন্যান্য নির্মাণকাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্লাস্টিক বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশের টেকসই ব্যবহারের কার্যকর উদাহরণ হতে পারে।

গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ গবেষণায় পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের সঙ্গে পাটের তন্তু, ধানের খড়ের তন্তু এবং এ দুটির মিশ্রণ ব্যবহার করে কম্পোজিট টাইলস তৈরি করা হয়েছে। গবেষণাটি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উন্নয়ন এবং কৃষিজ বর্জ্যরে মূল্য সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।