গল্প বা কার্টুনে আমরা সব সময় বিড়ালকে মাছ খেতে দেখি। তাই আমাদের ধারণা, বিড়াল সব সময় মাছ খেতে পছন্দ করে। কিন্তু সব মাছ পোষা বিড়ালের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়? বাজারে বা নদীতে পাওয়া সব ধরনের মাছ পোষা বিড়ালকে ইচ্ছেমতো খাওয়ানো যাবে না। ভুল মাছ খাওয়ালে বা ভুল উপায়ে খাওয়ালে বিড়ালের হজমে সমস্যা, অ্যালার্জি, এমনকি শরীরের নানা পুষ্টির ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। তাহলে বিড়ালের জন্য কোন মাছগুলো সবচেয়ে নিরাপদ? আর কীভাবে খাওয়ালে এরা সুস্থ থাকবে? চলো জেনে নেওয়া যাক।

বিড়াল মাছ খেতে পছন্দ করে। আর সঠিক মাছ খাওয়ালে ওদের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। মাছে এমন কিছু দরকারি পুষ্টি উপাদান আছে, যা বিড়ালের শরীর নিজে থেকে তৈরি করতে পারে না। তবে আমাদের দেশের বাজারে আমরা যেসব মাছ দেখি, তার সব কিন্তু বিড়ালের জন্য নিরাপদ নয়। তাই আদরের পোষা বিড়ালকে সুস্থ রাখতে সঠিক মাছটি বেছে নেওয়া খুব জরুরি।

বিড়ালকে মাছ খাওয়ানোর মূল কারণ হলো ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ভালো চর্বিগুলো বিড়ালের হার্ট ভালো রাখে এবং হাড়ের জোড়ার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বিড়ালের গায়ের লোমকে নরম আর চকচকে করে তোলে। যেসব বিড়ালের ত্বকে অ্যালার্জি বা চুলকানির সমস্যা আছে, মাছে থাকা উপাদান এদের সেই কষ্ট কমায় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

বিড়াল গাছে উঠে আটকে গেলে কী করব

সামুদ্রিক মাছে ডিএইচএ নামের একটি বিশেষ উপাদান থাকে, যা বিড়ালছানার চোখ ও মস্তিষ্কের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন একই খাবার না দিয়ে মাঝেমধ্যে নিরাপদ মাছ খাওয়ালে বিড়ালের খাবারের প্রতি আগ্রহও বাড়ে। বিড়ালের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হলো স্যামন, কডের মতো সামুদ্রিক মাছ। এগুলো বিড়ালের মাংসপেশি শক্ত করে কিন্তু শরীরে বাড়তি চর্বি জমতে দেয় না, ফলে বিড়াল চটপটে থাকে।

পলিথিনের মধ্যে সামুদ্রিক মাছ টুনা।

সামুদ্রিক মাছে থাকা সেলোনিয়াম নামে খনিজটি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আমাদের দেশের সাধারণ বাজারে এই সামুদ্রিক মাছগুলো পাওয়া যায় না। তবে বড় সুপারশপগুলোতে বিড়ালের ক্যানড ফুড বা ফ্রোজেন ফুড হিসেবে এগুলো সহজেই পাওয়া যায়, যা বিড়ালকে নিরাপদে খাওয়ানো সম্ভব।

এ ছাড়া আরও কিছু পুষ্টিকর মাছ রয়েছে। বিড়ালেরা টুনা মাছ খেতে খুব পছন্দ করে। এতে প্রচুর ভালো মানের প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। আমাদের দেশের বড় সুপারশপগুলোতে টিনজাত বা ক্যানড টুনা মাছ কিনতে পাওয়া যায়। তবে কেনার সময় ‘লাইট ক্যানড টুনা’ বেছে নেওয়া ভালো। কারণ, এতে ক্ষতিকর ধাতুর পরিমাণ কম থাকে। মনে রাখবে, টুনা মাছ বিড়ালকে প্রতিদিন দেওয়া যাবে না। মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

শত্রু হয়েও কিছু বিড়াল কেন কুকুরের সঙ্গে খেলে

সার্ডিন মাছ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিতে ভরপুর একটি তৈলাক্ত মাছ। আমাদের দেশে ক্যানড সার্ডিন পাওয়া যায়। এই মাছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে। এই উপাদানগুলো বিড়ালের হাড় ও দাঁত শক্ত করে এবং এদের হার্ট ভালো রাখে।

বিড়ালকে ম্যাকারেল মাছও খাওয়ানো যেতে পারে। আমাদের দেশে এই সামুদ্রিক মাছটি আইলা মাছ নামে খুবই পরিচিত। আর সাধারণ বাজারে সহজে পাওয়া যায়। ম্যাকারেল অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভালো মানের প্রোটিন এবং ভিটামিন বি-১২ থাকে। এই উপাদানগুলো বিড়ালের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং এদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে। ভালোভাবে কাঁটা বেছে ও সেদ্ধ করে বিড়ালকে খাওয়ানোর জন্য একটি চমৎকার ও সাশ্রয়ী মাছ। বিড়ালেরা সাগরের হোয়াইট ফিশের পাশাপাশি আমাদের দেশের ক্যাটফিশ বা মাগুর-শিংজাতীয় মাছও খুব পছন্দ করে।

বিড়াল কেন মানুষ দেখলে মিউ মিউ করে