বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানামুখী চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজার সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি)।
এ বিষয়ে রোববার (১২ জুলাই) উভয়পক্ষের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ দপ্তরে সমঝোতা স্মারক সই হয়। বিজিএমইএ’র পক্ষে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এইচএসবিসির পক্ষে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নতুন বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গতি আনা। হংকং রোডশোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও অংশীজনদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংলাপের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উন্মোচন করা হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ভ্যালু চেইন উন্নয়ন ও সোর্সিংয়ের নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কৌশলগত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং টেকসই রূপান্তরের চিত্র তুলে ধরা। এর মাধ্যমে শিল্পখাতের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি
এই কৌশলগত সমন্বয়ের আওতায় এশিয়ার অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক হাব হংকংয়ে একটি বৃহৎ পরিসরে অ্যাপারেল রোডশো আয়োজন করা হবে। এই রোডশো আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং বিশ্বমানের অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে প্রথাগত বাজারের বাইরে এশিয়া অঞ্চলে নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য ও সক্ষমতা তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে আয়োজিত হতে যাওয়া বৃহৎ বস্ত্র প্রদর্শনী বাটেক্সপো’র মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক থাকার কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে এইচএসবিসির একটি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে এবং বৈশ্বিক ক্রেতারা এইচএসবিসি এর মূল্যায়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা এই অনন্য কানেকশনকে কাজে লাগিয়ে হংকংয়ের অ্যাপারেল রোডশো’তে সেসব আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানাবো, যারা বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সেভাবে পণ্য সোর্সিং করছে না। এর মাধ্যমে আমাদের রপ্তানি পরিধি আরও প্রসারিত হবে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান পোশাক খাতের অমিত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং এই খাত থেকে দেশের আরও অনেক কিছু পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই শিল্পের অগ্রযাত্রার সঙ্গে ব্যাংকখাতের একটি ধারাবাহিক ও গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এইচএসবিসি প্রত্যাশা করে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আরও বড় পরিসরে বিকশিত হোক এবং এই প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে এইচএসবিসি সবসময় বিজিএমইএ’র পাশে থাকতে চায়। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ডেস্টিনেশন বা সোর্সিংয়ের উৎস পরিবর্তনের প্রবণতা তুলে ধরে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও গভীর গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন
তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বিজিএমইর সঙ্গে কাজ করবে ওকাইব
মো. মাহবুব উর রহমান বিজিএমইএ নেতাদের পোশাকের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ, সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শেয়ার বাড়ানোর লক্ষ্যে ৩ থেকে ৫টি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণের পরামর্শ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, এই অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলো বাস্তবায়নে এইচএসবিসি নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত বিজিএমইএ’র সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএ’র পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি এই যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন, কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং মো. আশফাকুর রহমান।
এসময় বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ.বি.এম. সামছুদ্দিন, বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানসহ এইচএসবিসি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইএইচও/ইএ








