আমাদের পূর্বপুরুষ হোমো সেপিয়েন্স অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে নিয়ান্ডারথালদের সম্পর্ক কেমন ছিল- তা জানতে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণা করেছেন। নিয়ান্ডারথালদের সংকরায়ণ হয়েছিল- প্রাচীন ডিএনএ থেকে এসব তথ্য ইতোমধ্যেই জানা গেছে। কিন্তু হাজার হাজার বছর আগের সেই প্রস্তর যুগে তাদের এ সম্পর্কটা আসলে কেমন ছিল?
বুধবার সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই রহস্য। প্রতিবেদনে জানা গেছে- এই দুই প্রজাতির মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও ছিল। বর্তমান তুরস্কের একটি গুহায় পাওয়া নতুন কিছু প্রমাণ এই কথাই বলছে। এ দুই দল কেবল একে অপরের মুখোমুখিই হয়নি, বরং তারা নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও ভাগাভাগি করেছিল। তারা একই ধরনের হাতিয়ার বানাত এবং একই জাতের সামুদ্রিক খোলস সংগ্রহ করত।
গত সোমবার বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পিএনএএস’ গবেষণাটি প্রকাশ হয়। এর প্রধান লেখক এবং তুরস্কের গাজিয়ানতেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক ইসমাইল বায়কারা ইমেইলে বলেন, ‘আমাদের আবিষ্কার ইঙ্গিত করে, নিয়ান্ডারথাল এবং মানুষরা কেবল একই এলাকায় পাশাপাশি বাসই করেনি, তাদের মধ্যে আরও গভীর কিছু ছিল।’ তিনি জানান, ‘যদিও আমরা সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রমাণ এখনো পাইনি, তবে তাদের প্রযুক্তি, শিকারের ধরন এবং পুঁতি হিসাবে সামুদ্রিক খোলস বহনের অবিশ্বাস্য মিল দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়- এ দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান ছিল।’ দক্ষিণ তুরস্কের ‘উচাগিজলি ২’ গুহাটি সম্পর্কে গবেষকরা আগে থেকেই জানতেন। তবে ২০২০ সালে অধ্যাপক ইসমাইল বায়কারার নেতৃত্বে সেখানে প্রথম নিয়মতান্ত্রিক খননকাজ শুরু হয়। গুহায় পাওয়া চার জোড়া দাঁত ও একটি আংশিক চোয়ালের হাড়ের জীবাশ্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে- আজ থেকে ৭৭,০০০ থেকে ৫৯,০০০ বছর আগে এখানে নিয়ান্ডারথালরা বাস করত। এরপর ৫৯,০০০ থেকে ৪৭,০০০ বছর আগে গুহাটিতে মানুষ থাকতে শুরু করে। গুহার মাটির স্তর পরীক্ষা করে এই সময়কাল নিশ্চিত করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়ে দুই প্রজাতিই ‘মুস্টেরিয়ান’ শৈলীর একই রকম চকমকি পাথরের হাতিয়ার তৈরি করত। ফ্রান্সের একটি পাথুরে আশ্রয়ে প্রথম এই ধরনের হাতিয়ার মেলায় এর নাম দেওয়া হয়েছিল মুস্টেরিয়ান। শুধু তাই নয়, দুই দলই বুনো ছাগল, হরিণ ও বুনো শুকরের মতো একই ধরনের প্রাণী শিকার করত। তবে গবেষকদের সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছে ‘কলাম্বেলা রাস্টিকা’ নামের এক ছোট সামুদ্রিক শামুকের খোলস। এটি নিয়ান্ডারথাল ও মানুষ উভয়ের আমলের স্তরেই পাওয়া গেছে। এগুলো আকারে এত ছোট ছিল যে তা খেয়ে পেট ভরানো অসম্ভব। কিছু খোলসে ছোট ছিদ্র পাওয়া গেছে, যা দেখে মনে হয় এগুলো অলংকার বা পুঁতি হিসাবে পরা হতো। গবেষকরা এগুলোকে ‘ম্যানুপোর্ট’ বা মানুষের বয়ে আনা জিনিস বলছেন। আগে ধারণা করা হতো এই খোলস কেবল আধুনিক মানুষই ব্যবহার করত, তবে এখন বোঝা যাচ্ছে নিয়ান্ডারথালদের কাছেও এর বেশ কদর ছিল।







