গ্রীষ্মমণ্ডলীয় একদল প্রজাপতি এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে, যাতে তাদের বার্ধক্যের গতি অন্যদের তুলনায় অনেক ধীর। ফলে তারা দীর্ঘ সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে করা এক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি ১৬ জুন প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ। সাইন্স ডেইলি।

গবেষণার বিষয় ছিল ‘হেলিকোনিয়াস’ গোত্রের প্রজাপতি। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বৃষ্টিবনে এদের বাস। গবেষকদের মতে, পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রজাপতিগুলোর মধ্যে এরা অন্যতম। বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণার জন্যও এই প্রজাপতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণত একটি প্রজাপতি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বেঁচে থাকে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, হেলিকোনিয়াস গোত্রের কিছু প্রজাতি তাদের কাছাকাছি আত্মীয় প্রজাতির তুলনায় গড়ে প্রায় তিনগুণ বেশিদিন বাঁচে। এমনকি কিছু প্রজাপতি প্রায় এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এর মধ্যে ‘হেলিকোনিয়াস হিউইটসোনি’ প্রজাতির একটি প্রজাপতি ৩৪৮ দিন বেঁচেছিল। অন্যদিকে এর নিকটাত্মীয় ‘ডায়োনে জুনো’ প্রজাতির সর্বোচ্চ আয়ু ছিল মাত্র ১৪ দিন। অর্থাৎ দুই প্রজাতির সর্বোচ্চ আয়ুর মধ্যে ২৫ গুণ পার্থক্য পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, হেলিকোনিয়াস প্রজাপতি এমন কিছু বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে, যা তাদের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করেছে। এ থেকে প্রকৃতিতে কীভাবে বার্ধক্যের গতি ধীর হয়, সে বিষয়ে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

দীর্ঘায়ু গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা : গবেষকদের মতে, দীর্ঘজীবী প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করলে সুস্থভাবে বয়স বাড়ার জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়। নতুন এই গবেষণা বলছে, হেলিকোনিয়াস প্রজাপতি ভবিষ্যতে দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণার জন্য একটি মডেল হতে পারে। এর মাধ্যমে জানা যেতে পারে, পরিবেশগত পরিবর্তন ও পরাগ খাওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য কীভাবে প্রাণীর আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ড. জেসিকা ফোলি বলেন, কীটপতঙ্গ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি প্রজাতিসমৃদ্ধ প্রাণীগোষ্ঠী। তাদের গঠন, জীবনধারা ও আয়ুতে অসাধারণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। কোনো কোনো পূর্ণাঙ্গ মে-ফ্লাই মাত্র কয়েকদিন বাঁচে, আবার কিছু পিঁপড়া ও উইপোকার প্রজননক্ষম সদস্য কয়েক দশক পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। অর্থাৎ একই প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যেই আয়ুর পার্থক্য প্রায় পাঁচ হাজার গুণ। তুলনায় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য প্রায় একশ গুণ। তিনি বলেন, ‘হেলিকোনিয়াস প্রজাপতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য শুধু দীর্ঘ জীবন নয় বরং তারা ধীরে ধীরে বার্ধক্যের দিকে এগোয়। এ কারণেই তারা কাছাকাছি আত্মীয় প্রজাতির তুলনায় অনেক বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে।’

বয়স বাড়লেও কমে না শক্তি : গবেষণায় পানামার স্মিথসোনিয়ান ট্রপিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরাও অংশ নেন। তারা আরও একটি চমকপ্রদ বিষয় খুঁজে পান। অন্তত একটি প্রজাতি, হেলিকোনিয়াস হেকালে-বয়স বাড়লেও শারীরিকভাবে তেমন দুর্বল হয়ে পড়ে না। এটি যাচাই করতে গবেষকরা প্রজাপতিগুলোর আঁকড়ে ধরার শক্তি পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, বয়সি হেলিকোনিয়াস হেকালে প্রজাপতিগুলো তরুণ প্রজাপতির মতোই ভালো ফল করছে। তাদের মধ্যে বয়সের কারণে শারীরিক দুর্বলতার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তুলনায় কম আয়ুর ড্রায়াস ইউলিয়া প্রজাতির ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে।