২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস কিংবা প্রশ্নফাঁসের গুজব কোনোটিই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরীক্ষাকে বিতর্কিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
রবিবার (২৮ জুন) সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, গত কয়েকটি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। অথচ বাস্তবে প্রশ্নফাঁস হয়নি। তারপরও কিছু ব্যক্তি ও গণমাধ্যম যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে। এবার এমন কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস না হলেও প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোও অপরাধ। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ ভাইরাল হবে, আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে- এটা হবে না।
পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল ঠেকাতে কেন্দ্র প্রধানদের কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থী প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে নকলের কোনো উপকরণ পাওয়া গেলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্র আপনার দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং কোনো অনিয়ম হলে কাউকে না কাউকে জবাবদিহি করতেই হবে।”
তিনি জানান, এবার পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বাড়ানো হবে। সিসিটিভি ক্যামেরাসহ ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষও স্মার্ট মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ড. মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শুধু পরীক্ষা নয়, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি চালু করা হবে।








