প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ফল প্রকাশের ঘোষণার পর এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা ফল ঘোষণা করলাম। এখন ওয়েবসাইটে ফলাফল আপলোডের কাজ শুরু হয়েছে। পুরো আপলোড প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগতে পারে বলে আমাদের অধিদপ্তরের ডিজি জানিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে সব জেলা ও উপজেলায় কারা বৃত্তি পেয়েছে, তা সবাই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পেয়ে যাবে।
সব দিক দিয়ে এগিয়ে মেয়েরা
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফলাফলে সবদিক দিয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। এবার বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন, শতাংশের হিসাবে যা ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। বৃত্তি পাওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন, যা শতাংশের হিসাবে ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফলে বৃত্তি পাওয়ার হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা প্রায় ১০ শতাংশ এগিয়ে।
ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ ক্যাটাগরি-ভিত্তিক বৃত্তি পাওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে ছাত্রীরা। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ১৬ হাজার ৩৯৮ জন। আর ছাত্রী ১৬ হাজার ৫৬৭ জন। হিসাব অনুযায়ী- ছাত্রের চেয়ে ১৬৯ জন বেশি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।
আরও পড়ুন
প্রাথমিক বৃত্তির ফল জানতে মোবাইলে মেসেজ করবেন যেভাবে
সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৪৯৪ জন এবং ছাত্রী ২৬ হাজার ৭৮৭ জন। হিসাব অনুযায়ী- সাধারণ ক্যাটাগরিতে ছাত্রদের চেয়ে ৭ হাজার ২৯৩ জন ছাত্রী বেশি বৃত্তি পেয়েছে।
ফলাফলে শীর্ষে ঢাকা, তলানিতে বান্দরবান
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে ঢাকা জেলার শিক্ষার্থীরা। ঢাকায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮২ জন বৃত্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১ হাজার ৮৯৭ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৭৮৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবানে। জেলাটি থেকে এবার বৃত্তি পেয়েছে মাত্র ১৮৮ জন। তার মধে ১০৯ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৭৯ জন সাধারণ ক্যাটাগরিতে।
ফেল-অনুপস্থিতি বেশি দিনাজপুর-নারায়ণগঞ্জে
বৃত্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে দিনাজপুর জেলায়। জেলাটিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ হাজার ৩৬৬ জন। তাদের মধ্যে ফেল করেছে ৮ হাজার ৮৯৮ জন। ফেলের অনুপাত ৫৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এদিকে, সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত ছিল নারায়ণগঞ্জে। জেলাটির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯ হাজার ১৯৬ জন। তার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ৪ হাজার ৮৫৮ জন। শতাংশের হিসাবে অনুপস্থিতি ৫২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আরও পড়ুন
প্রাথমিক বৃত্তির ফল ফাঁস, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বরখাস্ত
কারা কত টাকা পাবে, কতদিন পাবে
শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এ আর্থিক সুবিধা পাবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩ হাজার ২০৫টি।
এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন করেন ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।
গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন। উপস্থিতির হার ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন। আর বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন।
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ।
এএএইচ/বিএ








