বান্দরবানের সীমান্ত উপজেলা আলীকদমে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এখন নির্বাচনি আমেজ।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

আলীকদম উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছে আলীকদম সদর ইউনিয়ন। এখানে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অর্ধডজন বিএনপি নেতা। নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে সরব আছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনূস মিয়া, চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি ঈসমাইল হাসান, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সাবেক বিএনপি নেতা আবুল হাসেম, আব্দুর শুক্কুর, যুবদলের সদস্য সচিব মো. মারুফ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সন্তোষ কান্তি দাশ।

চৈক্ষ্যং ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, উপজেলা বিএনপির নেতা অংহ্লাচিং মার্মা, বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন এবং যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মীর কাসেম ছোট্টো।

নয়াপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনসার আহমেদ, শ্রমিক নেতা সরোয়ার এবং ফরিদ আহমেদ। অন্যদিকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে প্রার্থী হতে চান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাকনাও ম্রো এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ঈসমাইল হাসান বলেন, জনগণ চাইলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। জনগণ না চাইলে নির্বাচন করব না।’ বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী আবুল কালাম ও মো. মারুফ দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে থাকবেন। তাদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির মাসুক এলাহী বলেন, আমরা একটি সুশৃঙ্খল দল। জনগণ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ভালোভাবে চেনে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা সবাই তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিঠুন বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেই সিদ্ধান্তই মেনে চলব। অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে দল। ছাত্রনেতা আরফাতুল ইসলাম বলেন, আলীকদমের চার ইউনিয়নেই এবার বিএনপি নেতারাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী।