বিশ্ব চিঠি দিবস

এক সময় দূরে থাকা প্রিয়জনের খবর জানার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। কাগজের পাতায় মনের কথা, আবেগ ও অনুভূতি লিখে পাঠানো হতো স্বজন, বন্ধু কিংবা ভালোবাসার মানুষের কাছে। আর সেই চিঠির অপেক্ষায় দিনের পর দিন কাটত। ডাকপিয়নের হাতে একটি চিঠি পৌঁছানোর মুহূর্তে মিশে থাকত আনন্দ, কৌতূহল ও ভালোবাসা।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বদলে গেছে মানুষের যোগাযোগের ধরন। মুঠোফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন মুহূর্তেই এক প্রান্তের খবর পৌঁছে যাচ্ছে অন্য প্রান্তে। ফলে মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে হাতে লেখা চিঠি।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা ডাকঘরের আওতায় ১২টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা সদরে রয়েছে একটি ডাকঘর। একসময় এসব ডাকঘরে চিঠি পাঠানো ও গ্রহণ করতে মানুষের আনাগোনা থাকলেও এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। চিঠির পরিবর্তে পার্সেল, সরকারি ও বাণিজ্যিক ডাকসহ অন্যান্য ডাকসেবার ব্যবহারই বেশি দেখা যায়।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দশক আগেও দূরের স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। বিদেশে কিংবা দেশের অন্য প্রান্তে থাকা স্বজনের চিঠি আসার অপেক্ষায় থাকতেন পরিবারের সদস্যরা। ডাকপিয়ন বাড়িতে এলেই তৈরি হতো উৎসাহ। প্রিয়জনের হাতে লেখা চিঠি পেয়ে কেউ আনন্দে কেঁদেছেন, আবার কেউ সেই চিঠি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন বছরের পর বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা মনজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি চিঠি হাতে পাওয়ার আনন্দ এখনকার মুঠোফোনের বার্তা দিয়ে বোঝানো যাবে না। চিঠির প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে প্রিয় মানুষের স্পর্শ ও আবেগ জড়িয়ে থাকত।’

বিভাস নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগে চিঠির উত্তর আসতে কয়েক দিন, কখনো কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো। সেই অপেক্ষার মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ ছিল। এখন মুহূর্তেই কথা বলা যায়, কিন্তু সেই অপেক্ষার অনুভূতিটা আর নেই।’

সেতারা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘হাতে লেখা চিঠি ছিল মানুষের আবেগ প্রকাশের একটি বিশেষ মাধ্যম। এখন প্রযুক্তির কারণে যোগাযোগ সহজ হলেও চিঠির সেই অনুভূতি আর পাওয়া যায় না।’

পীরগঞ্জ ডাক বিভাগের প্রধান রাণী রায় বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা মানুষের সময় ও শ্রম কমিয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমেছে। তবে সরকারি চিঠিপত্র, নথি, পার্সেলসহ বিভিন্ন ডাকসেবা এখনো চালু রয়েছে।’