ভাবুন তো, আপনি কোনো দোকানে গিয়ে দুটি ভিন্ন রঙের একই মানের দুটি পণ্যের মধ্যে একটি বেছে নিলেন। কেন নিলেন? আসলে, এই বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বুঝে আবার অনেক সময় অজান্তেই আপনি আপনার পছন্দের রংটিকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পণ্যের মোড়কের রং আপনার সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। একে বলা হয় কালার সাইকোলজি বা রঙের মনোবিজ্ঞান।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের কার কোন রংটি প্রিয় তার সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আচরণেরও সম্পর্ক রয়েছে। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তেই কোনো নির্দিষ্ট রঙের প্রতি একটু বেশি আকৃষ্ট হই। এর কারণ সেই রংটি আমাদের মনের সঙ্গে একধরনের অদৃশ্য সম্পর্ক তৈরি করে।
আমাদের পছন্দের বা প্রিয় রংও অনেক সময় আমাদের জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি, স্বভাব, মানসিকতা এসব বিষয়ে ইঙ্গিত দিতে পারে। জেনে নিন আপনার পছন্দের রং আপনার সম্পর্কে কী বলে–
যাঁদের পছন্দের রং লাল, তাঁরা সাধারণত জীবনে নতুন অভিজ্ঞতাকে ভয় পান না। বিপদে বা সংকটে পিছিয়ে না গিয়ে এগিয়ে যাওয়াই তাঁদের স্বভাব। তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং কোনো ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করেন না। এই রং সাহস, আবেগ, শক্তি আর দুঃসাহসিকতার এক অদ্ভুত মিশেল।
এই রংটি আনন্দ, সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা আর ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। এই রং পছন্দ করা মানুষেরা সাধারণত খুব সহজেই সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁরা সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেও দক্ষ। বন্ধু বা পরিবারের মানুষের যত্ন নিতে তাঁরা ভালোবাসেন। অতিথি আপ্যায়ন, গল্প করা কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে মন খুলে আলাপ—এসবে তাঁরা আনন্দ পান। কোনো আড্ডা জমিয়ে তুলতে বা কোনো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারেন। আবার, কাজের ক্ষেত্রে তাঁরা বেশ কর্মঠ হয়ে থাকেন।
এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বললেই মন ভালো হয়ে যায়। তাঁদের অনেকের প্রিয় রং হলুদ হয়ে থাকে। এই রংটি সূর্যের রং, উচ্ছ্বাস আর আশার প্রতীক। যাঁরা এই রং ভালোবাসেন, তাঁরা সাধারণত জীবনের ভালো দিকগুলো আগে দেখার চেষ্টা করেন। কঠিন সময় এলে সহজে ভেঙে পড়েন না। তাঁরা যেখানে যান, সেখানে প্রাণ ফিরে আসে। নতুন জায়গা দেখা, নতুন কিছু শেখায় তাঁরা বেশ আগ্রহী হন।
আমাদের সবার জীবনেই এমন একজন মানুষ থাকেন, যাঁর কাছে নিশ্চিন্তে নিজের মনের কথা বলা যায়। যাঁরা আমাদের কথা রাখেন, দায়িত্ব পালন করেন এবং বিপদে পাশে দাঁড়ান। তাঁদের ওপর ভরসা করা যায়। এ ধরনের মানুষের পছন্দের রং নীল হয় বেশি। যাঁরা এই রং ভালোবাসেন, তাঁরা সাধারণত খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কোনো সমস্যা এলে হুট করে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, আগে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁরা পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেন। হঠাৎ কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে নতুন উপায় খুঁজে বের করেন। হয়তো এ কারণেই প্রযুক্তি ও সেবাভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানই তাঁদের পছন্দের রং হিসেবে নীলকেই বেছে নিয়েছে।
রংটি যেন চোখের শান্তি এনে দেয়। যাঁদের প্রিয় রং সবুজ, তাঁরা সাধারণত বাস্তববাদী এবং ধীরস্থির স্বভাবের হয়ে থাকেন। এ ধরনের মানুষ অন্যকে সাহায্য করতে ভালোবাসেন। বন্ধুদের সমস্যায় পরামর্শ দেওয়া কিংবা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোতে তাঁরা তৃপ্তি খুঁজে পান। প্রকৃতির সান্নিধ্য তাঁদের মানসিক শান্তির উৎস।
অনেকে এই রংটিকে নারীদের রং হিসেবে দেখেন। কিন্তু রংটি মানেই নারীত্ব নয়। এটি ভালোবাসা, মমতা, যত্ন আর আবেগেরও প্রতীক। যাঁদের প্রিয় রং গোলাপি তাঁরা সাধারণত খুব আন্তরিক হন। নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন না। মানুষকে ভালোবাসা, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁদের কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দগুলোর একটি।
রংটিকে অনেকেই কেবল শোকের প্রতীক মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এই রঙের আরেকটি দিকও আছে। এটি শক্তি, আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও অভিজাত রুচির প্রতীক। যাঁরা রংটি পছন্দ করেন, তাঁরা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী হন। সহজে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন না এবং দায়িত্ব নিতেও ভয় পান না।
সূত্র: বিগ থিংক ও অন্যান্য








