আল্লাহ তাআলা মানুষকে দুর্বল প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যেমন শারীরিকভাবে দুর্বল, মানসিকভাবেও দুর্বল। সামান্য বিপদে মানুষ ভেঙে পড়ে। জীবনের দুঃখ-কষ্ট, দুশ্চিন্তা ও বিপর্যয় প্রায়ই মানুষকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। তাই মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে আল্লাহর সাহায্য ও দয়া প্রয়োজন, যা তার দুর্বলতা দূর করতে পারে এবং মনকে প্রশান্ত করতে পারে।
এই সাহায্য লাভ করার অন্যতম উপায় হলো আল্লাহ তাআলার জিকির। এটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। জিকির মুমিনকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়, মুমিনের অন্তর প্রশান্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা ইমান এনেছে এবং যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে প্রশান্ত হয়—জেনে রাখো! আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে। (সুরা রা‘দ: ২৮)
বিভিন্ন হাদিসে ফজিলতপূর্ণ অনেক জিকিরের কথা বলা হয়েছে। বিশেষত চারটি জিকিরের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে বেশ কিছু হাদিসে। এগুলোকে আল্লাহর প্রিয় জিকির বলা হয়েছে। জিকিরগুলো হলো, সুবাহানাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আলহামদুলিল্লাহ অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই, আল্লাহু আকবার অর্থাৎ আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় জিকির চারটি। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। এগুলোর যে কোনোটি দিয়ে তুমি শুরু করতে পারো। (সহিহ মুসলিম: ৫৪১৬)
জিকিরগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে এভাবে পড়া যায়: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’
আরেকটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার পাঠ করা আমার কাছে ইহজগতের সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৫)
একবার কয়েকজন দরিদ্র সাহাবি নবীজিকে গিয়ে বলেন, সম্পদশালী সাহাবিরা দান-সদকার মাধ্যমে নেক কাজে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তো দান-সদকা করার মতো সামর্থ্য নেই। তখন নবীজি (সা.) তাদেরকে প্রতি নামাজের পর ‘সুবাহানাল্লাহ’ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করার পরামর্শ দেন।
আবু জর বলেন, নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসুল! বিত্তবান লোকেরা সওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। আমরা যা বলি, তারাও তা বলে এবং তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কিন্তু আমরা তা পারি না। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি আপনাদের এমন আমল বলে দিচ্ছি, যা করলে আপনারা আপনাদের অগ্রবর্তীদের ধরতে পারবেন এবং আপনারা যাদের অগ্রবর্তী তারা আপনাদের অতিক্রম করতে পারবে না। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর আলহামদুল্লিাহ, সুবহানাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, ৩৩বার এবং ৩৪ বার পাঠ করুন। (সুনানে ইবনে মাজা: ৯২৭)
ওএফএফ








