পৃথক পৃথক ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলেই ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি ও সরকারি সেবা ডিজিটাল করা নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সমন্বিত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করে উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃথক পৃথক ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলেই ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, একই তথ্য বারবার সংগ্রহ এবং একই ধরনের প্রযুক্তি সক্ষমতা বারবার তৈরির পরিবর্তে অভিন্ন সক্ষমতা, পারস্পরিক আন্তসংযোগ এবং জাতীয় তথ্য বিনিময় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়াতে হবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। একই তথ্য নাগরিকদের কাছ থেকে বারবার সংগ্রহ না করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদ ও অনুমোদিত তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করতে হবে।
একই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বারবার তৈরি না করে অভিন্ন অবকাঠামো ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল সক্ষমতা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তথ্য বিনিময় হতে হবে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায়। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
নাগরিকের কাছে সরকার কোনো বিচ্ছিন্ন মন্ত্রণালয় বা ডেটাবেইস নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি সমন্বিত সেবাব্যবস্থা। তাই সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোকে একটি ‘কানেক্টেড ইকোসিস্টেম’ (সংযুক্ত ব্যবস্থা) হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকের আস্থা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ডেটা ব্যবস্থাপনা, আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং নিরাপদ তথ্য বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী পাঁচ বছর আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ কানেকটিভিটি, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), এআই-সাইবার নিরাপত্তা ও দক্ষ জনশক্তি এবং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন-এই পাঁচ অগ্রাধিকার নিয়ে সরকার কাজ করবে।
এআই বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। স্টার্টআপে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেমিনারে সমন্বিত ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সরকারে ডেটার মালিকানা, দায়িত্বশীলতা ও আস্থা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভিশন ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন—ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের হেড অব ইউনিট এবং হেড অব কোঅপারেশন মাইকেল ক্রেইজা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও ইভেক্টিভ ই-গভর্নেন্স প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া প্রমুখ।



