এতদিন বন্দুকযুদ্ধে অপরাধীদের মৃত্যুর খবরের জন্য ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যটিই বেশি আলোচনায় থাকত। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হলো এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের।
জানা গেছে, অপরাধের ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন) করতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় যান পুলিশ কর্মকর্তারা।
রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত ব্যক্তি আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সে পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে গভীর রাতেই তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে, গত রোববার (৫ জুলাই) বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। এরপর স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই ঘটনায় প্রথম গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রভাস মণ্ডল নামে এক অভিযুক্তকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলারও অভিযোগ ওঠে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ রেল ও সড়ক অবরোধে নামেন। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হলে সেই ঘটনাতেও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে এই নিয়ে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর নেতা-নেত্রীরা।
মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সরকার যা করার করছে। চারজনের মধ্যে তিনজনকে ধরা হয়েছে, বাকিজনকেও ধরা হবে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, একজনকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’
তবে গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
ডিডি/কেএএ/








