এস ইসলাম, লন্ডন থেকে
যুক্তরাজ্যের ডানপন্থি রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজকে দেওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের অনুদানকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির একাধিক ব্যাংক ওই অর্থের উৎস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জাতীয় অপরাধ সংস্থা (ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি-এনসিএ)-তে একটি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুদানটি দিয়েছিলেন ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ব্যবসায়ী ও ধনকুবের ক্রিস্টোফার হারবর্ন। ব্যাংকগুলোর উদ্বেগ ছিল, অর্থের প্রকৃত উৎস পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এসএআর দাখিল করা মানেই কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমনটি নয়। বরং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লেনদেনটি পর্যালোচনা করার অনুরোধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে, ফারাজের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও পর্যালোচনা করছেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এই অনুদানের তথ্য যথাসময়ে ঘোষণা করেননি।
নাইজেল ফারাজ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অর্থ গ্রহণের সময় তিনি সংসদ সদস্য বা সক্রিয় রাজনীতিক ছিলেন না, তাই অনুদানটি প্রকাশ করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। অর্থের উৎস নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ তার নেই।
তবে প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, অনুদানের অন্তত একটি অংশ তিনি ২০২৪ সালের মে মাসে গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি প্রথমে জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে এসেক্সের ক্ল্যাকটন আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে অনুদান গ্রহণের সময়কাল এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিতর্কের মধ্যেই ফারাজ নিজের সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে জানিয়েছে, তারা ওই নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না। ফলে উপনির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, অনুদান-সংক্রান্ত তদন্ত এবং সম্ভাব্য পার্লামেন্টারি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা, অনুদান গ্রহণের নিয়ম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে আসা অর্থের ওপর নজরদারি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এমআরএম








