ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতা ও বন্যা মূলত নাগরিকদেরই তৈরি একটি কৃত্রিম সংকট বলে মন্তব্য করেছেন বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের অবৈধভাবে জায়গা দখল, যত্রতত্র ময়লা ফেলে ড্রেন বা নালা বন্ধ করা ও গণ-অবকাঠামোর অপব্যবহারের কারণেই প্রতি বছর শহরবাসীকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাইকোর্ট বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য এককভাবে সিটি করপোরেশন বা পৌর কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করা বন্ধ করা উচিত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম আনখাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত মঙ্গলবার এই কঠোর মন্তব্য করেন।
আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুম্বাই শহর রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমার জন্য এক প্রকার ‘ভাগ্য নির্ধারিত’ হয়েই আছে ও এটি আমাদের নিজেদেরই সৃষ্টি। অল্প একটু বৃষ্টি হলেই মুম্বাইয়ের রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ সচেতন না হয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নর্দমাগুলো আটকে দিচ্ছে, ফুটপাথ জুড়ে খাবারের দোকান বসাচ্ছে ও পাকা জায়গাগুলোকে অবৈধ পার্কিং স্পটে পরিণত করছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ঘুগে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সিটি করপোরেশন আমাদের ড্রেনেজ লাইন দিয়েছে, কিন্তু আমরা তা ময়লা দিয়ে ভরাট করেছি। তারা ফুটপাথ ব্যবহারের জন্য ব্লক বসিয়েছে, আমরা সেখানে গাড়ি পার্কিং শুরু করেছি। করপোরেশনের দেওয়া ফুটপাথ দখল করে পাও ভাজি, পাও মশলা, সাবুদানা বড়ার দোকান বসানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খোদ বোম্বে হাইকোর্ট ভবনের পূর্ব পাশের ফুটপাথগুলোও ফটোকপির দোকান, চায়ের দোকান ও কমলার জুস বিক্রেতাদের দখলে চলে গেছে, যার ফলে সেখানে হাঁটার কোনো উপায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশন একা কী করবে?
বিচারপতি ঘুগে আরও বলেন, আমাদের স্বভাব হলো নিজেদের মাতৃভূমিকে লুণ্ঠন করা। আমরা অবৈধভাবে জমি দখল করে দোকানপাট বসাই, আর যখন করপোরেশন উচ্ছেদ করতে আসে, তখন বলা হয় সাত দিনের নোটিশ দিন। উচ্ছেদ নোটিশ আসার পরই কেবল আইনের বই খোলা হয়। কিন্তু জমি দখলের সময় কেউ আইন পড়ে না।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএএইচ








